কুষ্টিয়ার পেয়ারাতলায় ভাংতি টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। গুরুতর আহত দুই শিক্ষার্থী হলেন- কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থী ফারহান এবং আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রজব।
গত ২৮ জানুয়ারি দোকানদার ও তার সহযোগীদের দ্বারা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় প্রায় ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হন এবং তাদের কুষ্টিয়া সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, ভাংতি টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে স্থানীয় ওই দোকানদার প্রথমে আমাদের মারধর ও হুমকি দেয়। পরদিন মীমাংসার জন্য গেলে আমাদের সিনিয়রসহ আবারও হামলা চালানো হয়। এতে অনেক শিক্ষার্থী আহত হন এবং দুজনের অবস্থা গুরুতর।
ঘটনার খবর পেয়ে কুষ্টিয়া সদরে উপস্থিত হন সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল বারী, অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রবিউল হক, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান এবং সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান।
বিভাগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, "গুরুতর আহত শিক্ষার্থীর পরিবার জিডি করতে চান নাই। তাদের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে থানায় উভয়ের মধ্যে মীমাংসা করা হয় এবং আটককারীদের মুসলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।"
এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার কামরুল বলেন, “প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উপস্থিতিতে বিষয়টির মীমাংসা হলে আমরা আপোষ-মীমাংসার কপি জমা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেই।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, “বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই এবং শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা সেবাপ্রদানে তৎপর থাকি। গুরুতর আহত হওয়া শিক্ষার্থী চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যায় এবং বর্তমানে সে সুস্থ আছে।”
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দুই শিক্ষার্থী চায়ের দোকানে ভাংতি টাকা দিতে গিয়ে স্থানীয় এক চা দোকানদারের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে ওই দ্বন্দ্ব সংঘর্ষে রূপ নিলে দোকানদার ও তার সহযোগীরা মিলে ওই দুই শিক্ষার্থীকে মারধর করেন। পরদিন বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের উদ্দেশ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে গেলে দোকানদার ও তার সহযোগীরা পুনরায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। হামলার সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রায় ২০ হাজার টাকা ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠে।
আ. দৈ./কাশেম