দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ে হাজির হননি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ। তবে প্রতিনিধির মাধ্যমে সময় চেয়ে দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল ১০ টায় ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছিল। গত ২১ জানুয়ারি দুদকের উপ পরিচালক মো. আশিকুর রহমানের স্বাক্ষরে পাঠানো তলবি নোটিশে প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজকে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়বস্তু সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে দুদকের হাজির না হয়ে,সময় চেয়ে তার প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ ও সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা কৌশলে সময় ক্ষেপন করছেন কিনা এবং দুদকের চলমান অনুসন্ধানীকার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করা কিংবা অনুসন্ধানী কার্যক্রমকে থামিয়ে দেওয়ার কোন মিশন আছে কিনা ওইসব বিষয় নিয়েও নানা গুঞ্জন চলছে ডিএনসিসিতে।
এদিকে ডিএনসিসির সাধারণ কর্মকতা ও কর্মচারীরা জানান, দুদকে সময় চেয়ে পাঠানো আবেদনটি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। কারণ প্রশাসকের সিন্ডিকেটের লোকজন ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের মেয়াদ শেষ হবার আগেই তাকে অনিদিষ্টকালের জন্য মন্ত্রনালয় থেকে চুক্তিভিত্তিক মেয়াদ বাড়ানোর প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দুদক থেকে ২১ জানুয়ারি পাঠানো ওই নোটিশে সুনিদিষ্ট বেশ কিছু বিষয় উল্লেখ করার পাশাপাশি,আরো অনেক অভিযোগের বিষয় রয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে ডিএনসিসির স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নানাবিধ বিষয়।
সূত্র মতে, প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা নোটিশে বলা হয়, ‘গাবতলী গররিহাট ইজারা, ই-রিকশা প্রকল্প রিকশা চালকদের ট্রাফিক আইন শিখাতে ৩০০ লেপটপ কেনা হয় সাড়ে ৪ কোটি টাকায়। ওই লেপটপের এখন হদিস নেই, এই প্রকল্পের নামে প্রায় ২২ কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। এছাড়া বনানীতে বোরাক টাওয়ার( হোটেল শেরাটন),বনানী কাঁচাবাজারে দোকান বরাদ্দ, খিলগাঁও তালতলা সুপার মার্কেটের কারপার্কি স্খানে দোকান নির্মাণ, ভ্যান সার্ভিস, ফুটপাত দোকান বরাদ্দসহ আরো অনেক দুর্নীতি।
এরঅর্থ হচ্ছে টপ টু বটম’ অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রশাসকের বক্তব্য নেওয়ার জন্যই নোটিশ প্রদানকারীর দপ্তরে তাকে হাজির হবার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। এবার দুদকের চলমান অনুসন্ধানে ডিএনসিসির ছোট ও বড় অনেক দুর্নীতি,জালিয়াতি, কোটি কোটি টাকার অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয়, মোটা অংকের কমিশন বাণিজ্য, আইন অমান্য করে নির্বাহী আদেশে ইচ্ছা মাফিক যাবতীয় কার্যক্রম করা হচ্ছে এবং কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়গুলোও আলোচনায় আসতে পারে।
এদিকে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) নগর ভবনে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে প্রশাসক, সাবেক ও বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা,সচিব এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ডেকে দীর্ঘ সময় নিয়ে ‘ক্লোজডোর’ মিটিং করেছেন। মিটিংয়ের বিষয়বস্তু ছিল দুদকের নোটিশে উল্লেখ করা অভিযোগগুলো নিয়ে।
অপরদিকে দুদকের সংশ্ল্ষ্টি দপ্তর ছাড়াও জনসংযোগ দপ্তরের জনৈক কর্মকর্তা এই প্রতিনিধিকে ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের পক্ষ থেকে সময় চেয়ে দুদকে আবেদন পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একইসাথে প্রাপ্ত আবেদনের বিষয়টি নিয়ে কমিশনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তবে এই বিষয়টি নিয়ে দুদকের নীতিনির্ধারণী কর্তৃপক্ষ শিগগিরই পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত জানাবেন।
ডিএনসিসির চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ ও প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের জবাব দিহিতার কোন বালাই নেই। এতোদিন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একাধিক প্রভাবশালী উপদেষ্টা এবং মন্ত্রণালয়ের একাধিক আমলাদের সহযোগিতায় পাচ্ছেন।
ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানে গত ৩০ নভেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে উপসহকারী পরিচালক সুবিমল চাকমাকে নিয়ে টিম গঠন করা হয়।
ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের ঢাকা দক্ষিণ সিটির একই অর্থ বছরের বাজেট নির্ধরণ করেন প্রায় দ্বিগুন অর্থ। লোপাটের বিশাল মিশন নিয়ে তিনি ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ইতোমধ্যে বার্ষিক বাজেটের ৮০/৯০ শতাংশ অর্থ অনেক অপ্রয়োজনীয় মনগড়া লোক দেখানো ও মুখরোচক বিভিন্ন ধরনের প্রগ্রামে এবং প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা খরচ করেছেন।
আ. দৈ./কাশেম