অবশেষে দুর্নীতি দমন কমিশনের কারেন্ট জালে ফ্যাঁসে যাচ্ছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) বর্তমান প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ এবং তার কোটি কোটি টাকা লোপাটের সিন্ডিকেটের ডজন খানিক প্রভাবশালী কর্মকর্তাসহ বেশ কয়জন বিভাগীয় প্রধান, সহকারী প্রধান, উপ প্রধান, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাঁয়িত্ব প্রাপ্ত প্রকৗেশলী, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা। ডিএনসিসির সিন্ডিকেট এতটাই প্রভাবশালী যে, তারা রাস্ট্রেীয় আইন,বিধির তোয়াক্কা করতো না।
এদিকে আগামী ২৯ জানুয়ারি সকাল ১০ টায় প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে। অভিযোগ গুলোর মধ্যে রয়েছে, গাবতলী গররিহাট ইজারা, ই-রিকশা প্রকল্প, বনানীতে বোরাক টাওয়ার( হোটেল শেরাটন), বনানী কাঁচাবাজারে দোকান বরাদ্দ, খিলগাঁও তালতলা সুপার মার্কেটের কারপার্কি স্খানে দোকান নির্মাণ, ভ্যান সার্ভিস, ফুটপাত দোকান বরাদ্দসহ আরো অনেক দুর্নীতি।
সূত্র মতে, ফ্যাসিস্ট সরকারের দুর্নীতিবাজ সাবেক মেয়র মো. আতিকুল ইসলামের শত শত কোটি টাকার লোপাট এবং দুর্নীতিকেও ছাড়িয়ে গেছে প্রশাসক এজাজ ও তার লোকজন। অভিযোগ উঠেছে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ডিএনসিসির প্রকৌশল বিভাগ, রাজস্ব বিভাগ, মার্কেট বিভাগ, সম্পত্তি বিভাগ, আইসিটি বিভাগ, ক্রয় ও ভান্ডার বিভাগ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ, সমাজ কল্যাণ ও বস্তিউন্নয়ন বিভাগ, হিসাব বিভাগ এবং পরিবহন বিভাগসহ অধিকাংশ দপ্তরকে লোপাটের আখঁড়ায় পরিনত করেছেন। ডিএনসিসিতে চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ ও প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের জবাব দিহিতার কোন বালাই নেই। কারণ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একাধিক প্রভাবশালী উপদেষ্টা এবং মন্ত্রণালয়ের একাধিক আমলার উদারতা ও সহযোগিতায় পাচ্ছেন ডিএনিসিসির প্রশাসকের নেতৃত্বে পরিচালিত সিন্ডিকেটের সদস্যরা।
তারা সরকারি ক্রয় নীতি লঙ্ঘণ ,ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বহিরাগত দালালদের সহযোগতায় ফ্রী স্টাইলে ইচ্ছামাফিক উন্নয়ণ, সংস্কার প্রকল্প গ্রহণ,অর্থবরাদ্দ, প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিসপত্র ক্রয়ের নামে ডিএনসিসির শত শত কোটি টাকা লোপাট করে যাচ্ছেন। এতদিন এক বছরের চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ পাওযা প্রশাসক এজাজের দুর্নীতির লাগাম টানার মতো কেউ ছিল না।
ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানে গত ৩০ নভেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে উপসহকারী পরিচালক সুবিমল চাকমাকে নিয়ে টিম গঠন করা হয়।
এর আগে গত ২৭ নভেম্বর ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। দুদকের চিঠির সংক্ষিপ্ত শিরোনামে বলা হয়, ‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারপূর্বক নানাবিধ অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ।’
ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের ঢাকা দক্ষিণ সিটির একই অর্থ বছরের বাজেট নির্ধরণ করেন প্রায় দ্বিগুন অর্থ। লোপাটের বিশাল মিশন নিয়ে তিনি ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ইতোমধ্যে বার্ষিক বাজেটের ৮০/৯০ শতাংশ অর্থ অনেক অপ্রয়োজনীয় মনগড়া লোক দেখানো ও মুখরোচক বিভিন্ন ধরনের প্রড়্রাম এবং প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা খরচ করেছেন। এরমধ্যে ‘ই-রিকশা চালকদের’ ট্রেনিংয়ের নামে সাড়ে ৪ কোটি টাকায় ৩০০ ল্যাপটপ ক্রয় এবং এই প্রকল্পে প্রায় ২২ কোটি টাকা লোপাট হয়েছে।
প্রয়োজেনের অতিরিক্ত ডিএনসিসিতে কয়েক শত কোটি টাকায় আলমিরা, চেয়ার টেবিল, ফ্যানসহ আসবাবপত্র ক্রয় করা হয়েছে। ভালো ভালো আসবাবপত্র অফিসে রাখার মতো স্থান পর্যন্ত নেই। ভারান্দায়,স্টোরে অযত্নে ফেলে রাখা হয়েছে। ড্রাইভার, ক্লিনারসহ শ্রমিকদের সংগঠনের বিভিন্ন অফিসে বিভাগীয় কর্মকর্তাদের দপ্তরের সমপরিমান মূল্যের আসবাবপত্রগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়রে রয়েছে। বর্তমানে ডিএনসিসিতে অতিমাত্রায় উন্নয়ন, সংস্কার, লোক দেখানো প্রকল্প এবং অপ্রয়োজনীয় কেনা টাকার বিল পরিশোধ ও কমিশন ভাগাভাগি করতে গিয়ে কোষাগার শূণ্যে নেমে আসছে।
আ. দৈ./কাশেম