চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় নরসিংদীর ড্রিম হলিডে পার্কের সামনে সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ১২ জন সাংবাদিক আহতের ঘটনায় এখনো মুল আসামী ধরা পড়েনি। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গত সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) আয়োজিত ফ্যামিলি ডে অনুষ্ঠান শেষে বাসযোগে ঢাকায় ফেরার পথে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, নরসিংদীর ড্রিম হলিডে পার্কের সামনে সাংবাদিকদের বহনকারী বেশকটি বাস সাময়িকভাবে রাস্তার পাশে পার্কিং করা হলে স্থানীয় একদল সন্ত্রাসী পিকনিকে ব্যবহৃত বাসপ্রতি ৬০০ টাকা করে চাঁদা দাবি করে। সাংবাদিকরা এতে আপত্তি জানালে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় সাংবাদিক এস এম ফয়েজ, শহিদুল ইসলাম শাহেদ, মহসিন কবিরসহ ১২ সাংবাদিক এবং ক্র্যাব স্টাফ লাল আহত হন। গুরুতর আহতদের দ্রুত নরসিংদী সদর হাসপাতাল ও অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
হামলার শিকার সাংবাদিকরা জানান, চাঁদা দাবি করা প্রতিবাদ করায় স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে তাদের উপর হামলা চালিয়েছে। শুধু তাই নয় পিকনিকের বাসে থাকা সাংবাদিকদের স্ত্রী-সন্তানদের পুড়িয়ে মারার হুমকি দিয়েছে। তারা জানান, ড্রিম হলিডে পার্কের সামনে রাস্তায় তারা পিকনিকের বাস পার্কি করেন।
যেখানে অন্যান্য বাসও পার্কিং করা ছিল। কিন্তু পিকনিক শেষে বাসায় ফেরার পথে তাদের বাস আটকে দিয়ে টাকা দাবি করে চাঁদাবাজরা। স্থানীয় এসব সন্ত্রাসী একটি রাজনৈতিক দলের পরিচয় দেয়ার পরও তাদের খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ, যা খুবই হাস্যকর। তারা যে দলেরই হোক না কেন অবিলম্বে ওইসব সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান সাংবাদিকবৃন্দ।
নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ আল-ফারুক জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুইজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ক্র্যাব কার্যনির্বাহী কমিটি। সংগঠনটির সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল ও সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ এক যুক্ত বিবৃতিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। একই সঙ্গে সংগঠনের পক্ষ থেকে মাধবদী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে সাংবাদিকদের উপর এহেন বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরাম। সংগঠনের মহাসচিব খায়রুজ্জামান কামাল স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
সংগঠনের সভাপতি এনামুল কবীর রূপম বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের অবলেম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। পাশাপাশি কোন পরিস্থিতিতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলো তাও খুঁজে বের করা আহবান জানান তিনি।