আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ (আলফাডাঙ্গা-বোয়ালমারী-মধুখালী) আসনে নির্বাচনী পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাশার খানের বিরুদ্ধে কালো টাকা ছড়ানো এবং পেশিশক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির প্রার্থীরা।
অস্ত্রসহ বাশার অনুসারী গ্রেফতার গত বুধবার রাতে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড গুলিসহ মাহাবুব হাসান সজিব নামে আবুল বাশার খানের এক ঘনিষ্ঠ অনুসারীকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেনা ও পুলিশ সূত্রের দাবি, নির্বাচনী এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও ভীতি সৃষ্টির লক্ষ্যেই সজিব অবৈধ অস্ত্র বহন করছিলেন। সজিবের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
নির্বাচনী ময়দানে অনিয়মের অভিযোগ এনে প্রার্থীরা তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন: খন্দকার নাসিরুল ইসলাম (বিএনপি): তিনি অভিযোগ করেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাশার প্রায় ২০০ কোটি টাকার ঋণগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে দেদারসে অর্থ ও অস্ত্র ব্যবহার করছেন। এছাড়া বহিরাগত লোক ভাড়া করে এলাকায় নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
ইলিয়াস মোল্লা (জামায়াতে ইসলামী): কালো টাকার বিস্তার রোধে প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে এখনই জোরদার অভিযান না চালালে নির্বাচনের দিন সাধারণ ভোটাররা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবেন।"
হাসিবুর রহমান অপু ঠাকুর (এনসিপি বিদ্রোহী): তিনি জানান, বাশারের কালো টাকার দাপটে সাধারণ ভোটাররা আতঙ্কিত এবং এতে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।
মাঠপর্যায়ে উত্তেজনা ও সংঘর্ষ বুধবার বিকেলে মধুখালীর জাহাপুর ইউনিয়নে টাকা বিতরণ ও ব্যানার লাগানোকে কেন্দ্র করে আবুল বাশারের সমর্থকদের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বাশারের দুই সমর্থক রবিন ও আরিফ গণধোলাইয়ের শিকার হন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছিলেন।
মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাইজুর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং নির্বাচনী সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে।
জনমনে আশঙ্কা : স্থানীয় ভোটারদের মতে, প্রার্থীর ঘনিষ্ঠজন অস্ত্রসহ ধরা পড়ায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সচেতন মহল মনে করছেন, এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে।
আ. দৈ./কাশেম