ফরিদপুরের মধুখালীতে মাদক সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে দুই ভাইকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের দস্তরদিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যক্তিগত এই হামলাকে রাজনৈতিক তকমা দিয়ে বিএনপির ওপর দায় চাপানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
আহতরা হলেন ওই গ্রামের জাহিদ হাসানের ছেলে আবিদ হাসান রবিন (২৬) ও আলিফ হাসান (২২)। তাদের বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান :
আহতদের বড় চাচা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোল্লা মো. ইসহাক জানান, প্রতিবেশী আব্দুল খালেকের ছেলে জিহাদ মোল্লা একজন চিহ্নিত মাদকাসক্ত। ১৫ দিন আগে জিহাদের এক সহযোগী গাঁজাসহ যৌথবাহিনীর কাছে ধরা পড়লে তারা প্রতিবেশী হিসেবে রবিন ও আলিফদের সন্দেহ করতে থাকে।
ইসহাক বলেন, "বিকেলে দুই ভাতিজা দোকানের সামনে বসে ছিল, তখন জিহাদ হঠাৎ চাকু নিয়ে হামলা করে। এটি সম্পূর্ণ মাদক ও প্রতিবেশীসুলভ বিরোধ। জিহাদ সবসময় নেশাগ্রস্ত থাকে, তার রাজনৈতিক জ্ঞান বা বোধ নেই। এখানে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক আমি দেখছি না।"
দ্বিমুখী অভিযোগ
ঘটনার পর ফরিদপুর-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাসার খান হাসপাতালে আহতদের দেখতে গিয়ে দাবি করেন, আহতরা তার কর্মী। ব্যানার লাগাতে গিয়ে তারা ধানের শীষের সমর্থকদের হামলার শিকার হয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও কৃষকদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "এটি দীর্ঘদিন ধরে চলা তাদের পারিবারিক ও মাদক সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব। ওই জিহাদ বিএনপির কেউ নয়। নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি পারিবারিক দুর্ঘটনাকে রাজনৈতিক রং লাগিয়ে ফায়দা লোটার অপচেষ্টা চলছে।"
মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান জানান, প্রাথমিক তদন্তে বিষয়টি পারিবারিক ও মাদক সংক্রান্ত বিরোধ বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। উভয় পক্ষই নিকটতম প্রতিবেশী। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আ. দৈ./কাশেম