রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অতিরিক্ত কেনা কাটা ও প্রকল্পের বিল পরিশোধে চাপ সিন্ডিকেটের, এফডিআর ভাঙ্গা চেষ্টার অভিযোগ, চলছে দুদকের অনুসন্ধান
লোপাটের জন্যই ঢাকা দক্ষিণের দ্বিগুন ঢাকা উত্তরের বাজেট করেন প্রশাসক এজাজের
আবুল কাশেম:
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৬ পিএম  আপডেট: ২৪.০১.২০২৬ ৯:৫৪ পিএম  (ভিজিট : ৬৪৪)
X

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নিবর্চান অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। একই সাথে ওইদিন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) বর্তমান প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের চুক্তি ভিত্তিক এক বছরের মেয়াদ শেষ হবার কথা রয়েছে। তিনি প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের পর গত বছর  ২৫ জুনে বোর্ড সভায় ডিএনসিসি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৬ হাজার ৬৯ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন করিয়ে নেন।  অথচ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক গতবছর ৬ আগস্ট ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩ হাজার ৮৪১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন। কর্পোরেশন।

এদিকে নাম না প্রকাশের শর্তে ডিএনসিসির একাধিক কর্মকর্তা অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে জানিয়েছেন, ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের ঢাকা দক্ষিণ সিটির একই অর্থ বছরের বাজেট নির্ধরণ করেন প্রায় দ্বিগুন অর্থ। লোপাটের বিশাল মিশন নিয়ে তিনি ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ইতোমধ্যে বার্ষিক বাজেটের ৮০/৯০ শতাংশ অর্থ অনেক অপ্রয়োজনীয় মনগড়া লোক দেখানো ও মুখরোচক বিভিন্ন ধরনের প্রড়্রাম এবং প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা খরচ করেছেন। এরমধ্যে ‘ই-রিকশা চালকদের’ ট্রেনিংয়ের নামে সাড়ে ৪ কোটি টাকায় ৩০০ ল্যাপটপ ক্রয় এবং এই প্রকল্পে প্রায় ২২ কোটি টাকা লোপাট হয়েছে।

 প্রয়োজেনের অতিরিক্ত ডিএনসিসিতে কয়েক শত কোটি টাকায় আলমিরা, চেয়ার টেবিল, ফ্যানসহ আসবাবপত্র ক্রয় করা হয়েছে। ভালো ভালো আসবাবপত্র অফিসে রাখার মতো স্থান পর্যন্ত নেই। ভারান্দায়,স্টোরে অযত্নে ফেলে রাখা হয়েছে। ড্রাইভার, ক্লিনারসহ শ্রমিকদের সংগঠনের বিভিন্ন অফিসে বিভাগীয় কর্মকর্তাদের দপ্তরের সমপরিমান মূল্যের আসবাবপত্রগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়রে রয়েছে। বর্তমানে ডিএনসিসিতে অতিমাত্রায়  উন্নয়ন, সংস্কার, লোক দেখানো প্রকল্প এবং অপ্রয়োজনীয় কেনা টাকার বিল পরিশোধ ও কমিশন ভাগাভাগি করতে গিয়ে কোষাগার শূণ্যে নেমে আসছে। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্থায়ী  আমানত (এফডিআর) ভাঙ্গার পায়তারা চলছে। এই স্থায়ী আমানত (এফডিআর) এবং কল্যাণ ফান্ডের টাকা ঠিকাদারদের অগ্রীম বিল পরিশোধ করা হলে কর্মচারীরা মারাত্নকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাঝে  প্রচন্ড ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাদের আশঙ্কা  এই ধরনের কার্যক্রম চলতে থাকলে আগামী ২/৩ মাস পরে নিয়মিত মাসিক বেতন অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

 এই ছবিটি ডিএনসিসির একটি আঞ্চলিক কার্যাালয়ের নিচতলায় ফেলে রাখা নতুন ও পুরনারো আলমিরার। অধিকাংশ অফিসেই এভাবে অতিরিক্ত আসবারপত্র সরবরাহ করা হয়েছে, এছাড়া ষ্টোরেও আছে। অনেক ভালো আসবাবপত্রও  কর্মকর্তাদের দপ্তর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে,অপ্রয়োজনীয় শত শত কোটি টাকার অনেক কেনা কাটা,কথিত উন্নয়ন ও সংস্কারমূলক চলমান অনেক প্রকল্পের কয়েক হাজার কোটি টাকা ইচ্ছামাফিক বরাদ্দ, বিল গ্রহণ. বিল পাস এবং অর্থ ছাড়ের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন প্রশাসকের শক্তিশালী সিন্ডিকেট। ইতোমধ্যে তারা কয়েক হাজার কোটি টাকা ডিএনসিসি থেকে বের করে নিয়েছেন।

ডিএনসিসির একাধিক কর্মকর্তা আরো জানান, প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের সিন্ডিকেট ‘টপ টু বটম’ কার্যক্রম যেমর-ছোট বড় নতুন ও সংস্কারমূলক সব প্রকল্পের অনুমোদন,অর্থ বরাদ্দ, বিল পাস পাশ, অর্থ ছাড়,ঠিকাদার নিয়োগ এমনকি ডিএনসিসির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পদোন্নতির সুপারিশ, দায়িত্ব বন্টন, পদায়নসহ সব কার্যক্রম এককভাবে গোপনীয়তার সাথে নিয়ন্ত্রণ করছেন। এই সিন্ডিকেটে নেতৃত্বে রয়েছেন অঞ্চল-৫ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (উপসচিব) মোঃ ছাদেকুর রহমান, অঞ্চল-৫এর নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর),(ভারপ্রাপ্ত) মো. মিজানুর রহমান, আরো ২/৩ জন নির্বাহী প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর এবং ভান্ডার-ক্রয় কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও সহকারী বর্জ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আরাফাত হোসেন, প্রশাসকের কথিত আত্মীয় বহিরাগত দালাল লিটন ও মাহবুবুর রহমানসহ ডিএনসিসির সংশ্লিষ্টরা। প্রশাসকের এই সিন্ডিকেটের কাছে অনেক আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা,একাধিক তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং দুই একজন প্রকল্প পরিচালকও একধনের অসহায় হয়ে পড়ছেন। সিটি করপোরেশনের ইতিহাসে এটা নজিরহীন ঘটনা। সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামের লোপাটকেও ছাড়িয়ে গেছে। বহিরাগত দালালাদের নেতৃত্বে পরিচালিত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে শত শত কোটি টাকার লোপাট, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনেক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

সূত্র মতে, প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের বিরুদ্ধে দুদকের পক্ষ দফায় দফায় অভিযান দুর্নীতির অভিযোগের চলমান অনুসন্ধান ও তদন্ত স্বত্তেও বাস্তবে কোন পরিবর্তন আসছে না। দুদক চিঠি পাঠিয়ে প্রশাসক এবং তার সিন্ডিকের ক্ষমতার অপব্যবহার পূর্বক নানাবিধ অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ তথ্য নিচ্ছে।  ডিএনসিসির সরবরাহ করাওইসব নথিপত্র যাচাই বাছাই চলছে। এরপরও ডিএনসিসিতে চলমান প্রকল্পের কাজ নামমাত্র যাচাই বাছাই করেই বরাদ্দকৃত বিলের টাকা ছাড় করানোর জন্য চীফ,সচিব ও হিসাব বিভাগের ওপর অস্বাভাকি চাপ বাড়ানো হচ্ছে। অথচ তাদের কোন জবাব নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ উঠেছে, এই সিন্ডিকেটের বেশিরভাগ সদস্য ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের দোসর সাবেক মেয়র মো. আতিকুল ইসলামের সহযোগি। তারা অনেক সুবিধাভোগী ও চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা। তবে বর্তমানে তারা বিএনপির পরিক্ষিত লোক হিসেবে নিজেদেরকে পরিচয় দেওয়ার চেষ্টায় আছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তারা আবার কৌশলে প্রশাসক এজাজের সিন্ডিটে ঢুকে,নিয়োগ,বদলি,পদায়ন বালিজ্যসহ বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে নানা অনিয়ম,দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে প্রভাব বিস্তার করে কয়েক কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

এদিকে ডিএনসিসির অঞ্চল-৫ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (উপসচিব) মো. ছাদেকুর রহমান আলোচিত ‘টপ টু বটম’ কার্যক্রম যেমর- শত শত কোটি টাকার কেনা কাটা, ছোট বড় নতুন ও সংস্কারমূলক সব প্রকল্পের অনুমোদন,অর্থ বরাদ্দ, বিল পাস পাশ, অর্থ ছাড়,ঠিকাদার নিয়োগ কার্যক্রম হস্তক্ষেপ সংক্রান্ত অভিযোগ প্রসঙ্গে ‘আজকের দৈনিক পত্রিকাকে’ বলেন, তার কোন সিন্ডিকেটনেই। ডিএনসিসির প্রকল্পের কাজ দেখেন প্রকৌশল বিভাগ, এটা টেকনিকেল কাজ। তিনি প্রশাসনের লোক, প্রশাসন দেখা শোনা করা তার কাজ। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সত্য নয় বলে তিনি দাবি করেন।

ডিএনসিসির অঞ্চল-৫এর নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) মো. মিজানুর রহমান আলোচিত ছোট বড় নতুন ও সংস্কারমূলক সব প্রকল্পের অনুমোদন,অর্থ বরাদ্দ, বিল পাস পাশ,অর্থ ছাড়,ঠিকাদার নিয়োগ কার্যক্রম সিন্ডিকেটের হস্তক্ষেপ সংক্রান্ত অভিযোগ প্রসঙ্গে ‘আজকের দৈনিক পত্রিকাকে’ অফিসিয়াল সিস্টেম কথা উল্লেখ করে বলেন, এসব আনিত অভিযোগ সঠিক না। তিনি বলেন, প্রকল্পের কাজ অফিসিয়াল সিস্টেম হচ্ছে। তার আগে ডেস্ক অফিসার, উপসহকারী প্রকৌশলী স্বাক্ষর করেন। এরপর তিনি স্বাক্ষর করে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে পাঠান। এরপর তত্বাবধায়ক প্রককৌশলী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, প্রধান প্রকৌশলী স্যার স্বাক্ষর করে ওই নথি। সচিব এবং চীফ অফিসারের স্বাক্ষর হবার পর প্রশাসকের অফিসের মাধ্যমে প্রশাসকের টেবিলে যায় এবং চূড়ান্ত স্বাক্ষর হয়। তার পক্ষ থেকে  হস্তক্ষেপ করার কোন সুযোগ নেই। আনিত অভিযোগ সত্য নয়।

ডিএনসিসির ভান্ডার-ক্রয় কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আরাফাত হোসেন ‘ই-রিকশা চালকদের’ ট্রেনিংয়ের নামে সাড়ে ৪ কোটি টাকায় ৩০০ ল্যাপটপ ক্রয় এবং প্রয়োজেনের অতিরিক্ত ডিএনসিসিতে কয়েক শত কোটি টাকায় আসবাবপত্র ক্রয়ে দুর্নীতি ও লোপাটের বিষয়ে আজকের দৈনিক পত্রিকাকে বলেন তিনি এসব ক্রয়ের সাথে জড়িত নয়। তার বিরুদ্ধে অনিত অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন তিনি।

আ. দৈ./কাশেম

 


Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
বিশেষ সংবাদ- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : [email protected]

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝