ছবিতে- পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক এমপি মো. মহিউদ্দীন মহারাজ
ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক এমপি মো. মহিউদ্দীন মহারাজের নেতৃত্বে এলজিইডি সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো: আলি আখতার হোসেনসহ ২৭ জনের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের আয়রন ব্রীজ পুনর্বাসন সহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ না করেই মোট এক হাজার ৭৯ কোটি ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৮৩৯ টাকা আত্মসাতের সুনিদিষ্ট অভিযোগে পৃথক ৮টি মামলা দায়ের করেছে দুদক। গত ১৫ এপ্রিল দুদকের পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে ওই ২৭ জনের বিরুদ্ধে পৃথক ৮টি মামলা দায়ের হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) দুদক মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন এই বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মামলা দায়ের পর গত ১৫ এপ্রিলই ২৭ আসামিদের মধ্যে এলজিইডির ৫ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুদকের মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, পিরোজপুর এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আলি আখতার হোসেন, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ খান, সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুস সাত্তার হাওলাদার এবং মেসার্স হরিনপালা ট্রেডার্সের মালিক ও পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক এমপি মো. মহিউদ্দীন মহারাজসহ ২৭ জনের নাম।
দুদক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের সামনে প্রকল্পের অর্থ জালিয়াতি, প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে কিভাবে কোন প্রকল্পে কত টাকা আত্মসাৎ করেছেন তার সংক্ষিপ্ত তথ্য উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের আয়রন ব্রীজ পুনর্বাসন (ওইজচ)’ প্রকল্পের আওতায় ২০১৮-১৯ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ১২৮টি স্কীমের বিপরীতে ২৭৭ কোটি ৫৭ লাখ ৯৮ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠমো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ০২টি স্কীমের কাজ না করেই ১০ কোটি ৫০ লাখ ৩৯ হাজার টাকা।
‘ঘূর্নিঝড় আম্পান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পল্লী সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন শীর্ষক ’ প্রকল্পের আওতায় ২০২১-২২ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৬৪ টি স্কীমের বিপরীতে সর্বমোট ২০৬ কোটি ৬০ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। ‘পিরোজপুর জেলা পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ’ প্রকল্পের আওতায় ২০২১-২২ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৩১টি স্কীমের বিপরীতে সর্বমোট ৯০ কোটি ৮৬ লাখ ১৯ হাজার টাকা।
‘বরিশাল বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ এবং শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের’ আওতায় ২০২২-২৩ অর্থ বছরে পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ১১৮টি স্কীমের কাজ না করে ৪০৮ কোটি ৫৭ লাখ ৮৯ হাজার ৪০০ টাকা। ‘উপজেলা শহর (নন-মিউনিসিপ্যাল) মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন ও মৌলিক অবকাঠামো (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ০২টি স্কীমের কাজ না করে ৩ কোটি ৭৩ লাখ ৫৮ হাজার টাকা।
‘বরিশাল, ঝালকাঠী, পিরোজপুর জেলা ’ প্রকল্পের আওতায় ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৩১টি স্কীমের বিপরীতে ৭০ কোটি ৬৭ লাখ ৯৬ হাজার ৪৩৯ টাকা। ‘পল্লী সড়ক ও কালভার্ট মেরামত কর্মসূচি ’ প্রকল্পের আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ০২টি স্কীমের কাজ না করে ১০ কোটি ৫০ লাখ ৩৯ হাজার টাকা
এভাবে পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ভিন্ন ভিন্ন প্রকল্পের কাজ না করে সর্বমোট ১ হাজার ৭৯ কোটি ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৮৩৯ টাকা আত্মসাতের জন্য মো: আলি আখতার হোসেন, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী, এলজিইডি, মো: আব্দুর রশীদ খান, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী, এলজিইডি, মোঃ আব্দুস সাত্তার হাওলাদার, সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী, এলজিইডি, পিরোজপুর এবং মো: মহিউদ্দীন মহারাজ, প্রোপ্রাইটর: মেসার্স হরিনপালা ট্রেডার্স ও সাবেক সংসদ সদস্য, পিরোজপুর-২, পিরোজপুরসহ মোট ২৭ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালায়, পিরোজপুর এর মামলা নং-০১ থেকে ০৮।
উল্লেখ্য যে, গত ১৫ এপ্রিল উক্ত আসামিদের মধ্যে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে যথা: গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন; এলজিইডি’র পিরোজপুর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের হিসাব রক্ষক একেএম মোজাম্মেল হক খান (সামযিকভাবে বরখাস্তকৃত),
এলজিইডি’র পিরোজপুর জেলা একাউন্টস এন্ড ফিন্যান্স অফিসার মো: মোহাসীন, এলজিইডি’র পিরোজপুর জেলা একাউন্টস এন্ড ফিন্যান্স অফিসার মো: মাসুম হাওলাদার, পিরোজপুর জেলা সাবেক একাউন্টস এন্ড ফিন্যান্স অফিসার (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) মো: আলমগীর হাসান।
আ. দৈ. / কাশেম