দেশের বহুল আলোচিত দুর্নীতিবাজ ও বিদেশে অর্থপাচারকারী বেসিক ব্যাংক লিমিটেডের আলোচিত সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হাই বাচ্চু ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ২৪৮ কোটি টাকার অবৈধ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক ৪ মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় অভিযুক্ত ও আসামিরা হলেনর; শেখ আব্দুল হাই বাচ্চু, তার স্ত্রী মিসেস শিরিন আকতার, ছেলে শেখ ছাবিদ হাই অনিক এবং মেয়ে শেখ রাফা হাই। দুদকের মামলায় অবৈধ সম্পদ অর্জনের পাশাপাশি ৫৮ কোটি টাকা কানাডায় পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ইতোমধ্যে দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট আদালত অভিযুক্ত শেখ আব্দুল হাই বাচ্চু,তার স্ত্রীও তার সন্তানদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
প্রথম মামলায় একমাত্র আসামি বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হাই বাচ্চু। অপর তিন মামলায় শেখ আব্দুল হাই বাচ্চুকে সহযোগী হিসেবে কমন আসামি করা হয়েছে।
রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন গণমাধ্যমকে মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দুদক আইন ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ৪(২ ও ৩) ধারা, দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় ৪টি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রথম মামলায় একমাত্র আসামি শেখ আব্দুল হাই বাচ্চুর বিরুদ্ধে ৬৮ কোটি ৭৬ লাখ ৪৬ হাজার ১৫ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন এবং ৫৬ কোটি ৫৭ লাখ ১০ হাজার ২০৭ টাকা কানাডায় পাচারসহ মোট ১২৪ কোটি ৯৩ লাখ ৬ হাজার ২৭৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ কানাডায় পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদকের দ্বিতীয় মামলায় তার স্ত্রী মিসেস শিরিন আকতার ও শেখ আব্দুল হাই বাচ্চুকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় ৩৬ কোটি ৫১ লাখ ৩৪ হাজার ৩০৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তৃতীয় মামলায় ছেলে শেখ ছাবিদ হাই অনিক ও বাবা শেখ আব্দুল হাই বাচ্চুকে আসামি করা হয়েছে। ছেলে শেখ ছাবিদ হাই অনিকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে ৪৩ কোটি ৬২ লাখ ৬০৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া তার বাবার কাছ থেকে ২৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকার ২ কাঠা জমি হেবা দলিল মূলে প্রাপ্ত হয়েও দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে গোপন করেছেন। এছাড়া অবৈধভাবে উপার্জিত ৮৭ লাখ ৬২ হাজার ৭৮ টাকা কানাডায় পাচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
চতুর্থ মামলায় তার মেয়ে শেখ রাফা হাই ও তার বাবা শেখ আব্দুল হাই বাচ্চুকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় শেখ রাফা হাইয়ের বিরুদ্ধে ৪০ কোটি ৪১ লাখ ৪৫ হাজার ১৬৪ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এছাড়া অবৈধভাবে উপার্জিত ৭৪ লাখ ৮১ হাজার ৪৬৩ টাকা কানাডায় পাচার ও সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে বাবার কাছ থেকে ৮৬ লাখ ২৫ হাজার টাকার ৬ কাঠা জমি হেবা দলিল মূলে প্রাপ্ত হয়েও গোপন করেছেন তিনি।
আরো অভিযোগ রয়েছে, ২০২৩ সালের ১২ জুন বেসিক ব্যাংকের আলোচিত সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুসহ ১৪৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দেয় দুদক। সংস্থাটির দায়ের করা মোট ৫৯ মামলার চার্জশিটের মধ্যে ৫৮টি মামলার তদন্তে নতুন আসামি হিসাবে আবদুল হাই বাচ্চু ও কোম্পানি সচিব শাহ আলম ভূঁইয়াকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অথচ ২০১৫ সালে দায়ের করা কোনো মামলাতেই বাচ্চুকে আসামি করা হয়নি। যে কারণে দুদককে বারবার বিভিন্ন প্রশ্নের মুখেও পড়তে হয়েছে। মামলার দীর্ঘ ৮ বছর পর চার্জশিটে আবদুল হাই বাচ্চুকে আসামি করা হয়।
এছাড়া গত বছরের এপ্রিলে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট বাজারের ৩০.২৫ কাঠা জমি ক্রয় দেখিয়ে লুটপাট করা প্রায় ৯৫ কোটি টাকা গোপন করার চেষ্টা ও সাড়ে ৮ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হাই বাচ্চু, তার স্ত্রী-সন্তান ও ভাই এবং হোটেল লা মেরিডিয়ানের মালিক আমিন আহমেদসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।
আ. দৈ./ কাশেম