অবশেষে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) বর্তমান প্রশাসক দুর্নীতির বরপুত্র বলে খ্যাত মোহাম্মদ এজাজ এবং তার সিন্ডিকেটের ভয়াবহ জালিয়াতি,ক্ষমতার অপব্যবহার, শত শত কোটি টাকা লোপাট,আলোচিত বড় বড়,ঘুষ, দুর্নীতি এবং অনিয়মের লাগাম টেনে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সাথে ডিএনসিসির বহুল আলোচিত দুর্নীতির সুনিদিষ্ট অভিযোগ অনুসন্ধান করে ভয়ঙ্কর অপরাধের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে সুপারিশসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের জন্যও কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুদকের এক সভায় ডিএনসিসির দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার জন্য সুনিদিষ্ট অভিযোগের অনুসন্ধান ও জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পাশাপাশি অনুসন্ধানী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দুদকের নীতিনির্ধারনী পর্যায়ের জনৈক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ‘আজকের দৈনিক’ পত্রিকাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চলতি বছর ১২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন,সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪ এর ধারা ‘২৫ ক এর উপধারা’ (১) অনুযায়ী মোহাম্মদ এজাজকে এক বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়। উক্ত উপধারা ২৫ক এর উপ-ধারা (৩) অনুযায়ী তাকে মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করা হয়। বিধি মোতাবেক মাসিক সম্মানী ভাতা ও অন্যান্য ভাতাদি প্রাপ্য পাচ্ছে। আর এই ক্ষমতা পেয়েই তিনি ডিএনসিসিতে প্রকাশ্যে লোপাট ও দুর্নীতির উৎসবে মেতে উঠেন।অবস্থাটা এমন যে, পাতি শিয়ালকে মুরগীর খামারের পাহাড়াদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি পাতি শিয়ালের চেয়েও বেশি চালাক। কতিপয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী নেতাকে কৌশলে পাশে রেখে দাপটের সাথে লোপাট করে যাচ্ছেন মোহাম্মদ এজাজজ।
সংশ্লিষ্টসূত্র মতে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা, ফ্যাসস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মেয়র আতকুল ইসলামের আমলের লোপাট, জালিয়াতি,দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছেন ডিএনসিসির বর্তমান প্রশাসক দুর্নীতির বরপুত্র বলে খ্যাত মোহাম্মদ এজাজ। তিনি গত ৯ মাসে ডিএনসিসিকে দুর্নীতির আখঁড়ায় পরিনত করেছেন। রাষ্ট্রীয় আইন,বিধি এবং ডিএনসিসির বোর্ড সভার রেওয়াজ পর্যন্ত অমান্য করে একের পর এক নিজের মনগড়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। এসব বিষয়ে দুদকের পক্ষ থেকে একাধিকবার অভিযান চালানোর পরও প্রশাসকের সিন্ডিকেটের অপকর্ম বন্ধ হয়নি। বরং আরো শক্তিশালী হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ইতোমধ্যে ডিানেসিসির বার্ষিক বাজেটের সিংহভাগ অর্থ নানা প্রকল্পের নামে ইচ্ছা মাফিক বরাদ্দ দিয়ে কোষাগার প্রায় খাঁলি করে ফেলেছেন তিনি। ভয়ে বিভাগীয় প্রধান, উপ প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রশাসকের অবৈধ নির্দেশনা,সিদ্ধান্ত এবং কোটি কোটি টাকা লোপাটের বিষয়ে কথা বলার সাহস পাচ্ছেন না। কথা বললেই নানা অপবাদ দিয়ে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে হয়রানীমূলক বদলি শরু করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্টসূত্র মতে, নগরীর ফুটপাত ও মাকের্টে দোকান বরাদ্দ দেওয়া, কর্মকর্তা- কর্মচারীদের নিয়োগ,বদলি,পদায়ন, বড় বড় কেনা কাটা, উন্নয়ন মূলক প্রকল্পে বরাদ্দ অর্থ থেকে শুরু করে এমন কোন সেক্টর নেই, যেখানে প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ, তার প্রশাসন এবং বহিরাগত আত্মীয়দের সমন্বয়ে গঠিত সিন্ডিকেটের হিংস্র থাবা পড়েনি।
দুদক সূত্র মতে, গত ২ নভেম্বর দুদকের চেয়ারম্যানের দপ্তরে ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজ জে বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপরারহার ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত তথ্য প্রমাণসহ অনেকগুলো সুনিদিষ্ট অভিযোগ দাখিল করা হয়। পওে দাখিল করা আবেদন এবং অভিযোগগুলো যাচাই বাছাই করে এবার অনুসন্ধানর জন্য কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
আবেদনকারী অভিযোগে উল্লেখ করেছেন,ডিএনসিসির বর্তমান প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশির এবং প্রভাক্ষদর্শী সূত্রে প্রান্তে নানাবিধ অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের তথ্য ঘটনায় তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। কারণ মোহাম্মদ এজাজে প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিভিন্ন প্রকল্প ইজারা ও সরকারি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় অসংখ্য অনিয়ম এবং আর্থিক দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন।
১, গাবতলী গরুর হাট ইজারা অনিয়ম ও দুর্নীতি : কোরবানির পশু বিক্রয়ের হাট ইয়োরাকে কেন্দ্র করে প্রশাসক মো.এজাজের নেতৃত্বে একাধিক টেন্ডারে অনিয়ম, যোগসাজশ ও সিন্ডিকেট গঠনের মাধ্যমে দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে। দুদক অভিযান চালানোর পর অনিয়ম বন্ধ হয়নি। ফলে সিটি কর্পোরেশনের আর্থিক ক্ষতি ও জনস্বার্থ বিঘ্নিত হয়েছে।
২, ই-রিকশা প্রকল্পে দুর্নীতি ও স্বার্থের সংঘাত: সম্প্রতি ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে ডিএনসিসির নেওয়া উদ্যোগে নীতিমালা ভঙ্গ, স্বজনপ্রীতি এবং এক উপদেষ্টার নিজের ব্যবসায়িক স্বার্থরক্ষা সম্পর্কিত অভিযোগ রয়েছে। প্রকল্পটি মূলত জনস্বার্থের পরিবর্তে একটি বাক্তিগত ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর সুবিধার্থে নেওয়া হয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে সংযুক্ত প্রমানাদিতে তা সুস্পষ্ট যে প্রশাসকের প্রত্যক্ষ মদদে এই দুর্নীতির কার্যক্রম ঘটছে।
৩. বনানীতে ‘বোরাক টাওয়ার/হোটেল শেরাটন’ ইস্যু: ডিএনসিসির অংশীদারিত্বে থাকা বোরাক টাওয়ার প্রকল্পে প্রশাসকের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও গোপন বৈঠকের মাধ্যমে চুক্তি স্বাক্ষর সংক্রান্ত গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এই ঘটনায় সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পর্যন্ত লিখিতভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ব্যাতিত চুক্তি সাক্ষর ব্যাক্তিগতভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হবার উদ্ধেশে এই চুক্তি করেছেন।
৪. বনানী কাঁচাবাজারে বেআইনি ৩৩ দোকান বরাদ্দ ও দুর্নীতি: কর্পোরেশনের আইনি বিধান উপেক্ষা করে বনানী কাঁচাবাজার ভবনের পাশে ৩৩টি দোকান অবৈধভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়, এখানে কয়েক কোটি টাকার লেনদেনের মাধ্যমে প্রশাসক তার বিশেষ অনুগত কর্মকর্তাদের দিয়ে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে অভি গোপনীয়তার সাথে এই বরাদ্দ কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।
৫. খিলগাঁও তালতলা সুপার মার্কেটে পার্কিং স্থানে দোকান নির্মাণ: আগুন ও স্থাপত্যগত ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও কেবল মাত্র আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জনা পার্কিংয়ের জায়গায় ২১৯টি নতুন দোকান নিয়ম নীতি উপেক্ষে করে প্রশাসক-সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বরাদ্দ প্রদান করেন।
৬, দোকান দেয়ার নামে ৫ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেন: রাজধানীর গুলশানে ঢাকা।ডিএনসিসির নগর ভবনে প্রশাসক মোহাম্মাদ এজাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বোর্ড সভায় কাওরান বাজারের অর্ধশতাধিক বাবসায়ী জোরপূর্বক ঢুকেই প্রশাসকের আত্মীয় মাহবুবুর রহমান প্রশাসকের নাম ব্যবহার করে ব্যবসায়ীদেরকে দোকান দেওয়ার নামে কয়েক দফায় ৫/৬ কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। ব্যবসায়ীদের এই অভিযোগ এবং হট্টোগোলের ঘটনায় ওইসময় প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ ও ডিএনসিসির বোর্ড সভায় অংশ গ্রহণকারী ডিএনসিসির বিভাগীয় প্রধান, মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা বিব্রতকর পরিস্থিতে পড়েন।
৭, ভ্যান সার্ভিসে দুর্নীতির সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। ভ্যান সার্ভিসের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং অনেক টাকার বিষয় এর সাথে জড়িত। গত ২০২১ সালের মাঝামাঝির পর থেকে এটাকে একটা নিয়মের মধ্যে আনার বিষয়ে বেশ কিছু বিধি প্রতিপালন সাপেক্ষে ০২ বার চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি। প্রশাসক এই সুযোগে কোন প্রকার নিয়ম না মেনে অঙ্কের টাকার বিনিময়ে নিজের পছন্দের লোকদের এই কাজ দেবার প্রায় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ফেলেছেন। জন প্রতি কমপক্ষে ১০ লক্ষ টাকা করে ধরলে আনুমানিক ২০০ জনকে কাজ দিলে টাকার অঙ্ক আসবে প্রায় ২০ কোটি টাকা। এমন একটি বিষয়ে দ্রুত নজর না দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
উপরোক্ত অভিযোগ ছাড়াও প্রশাসক এজাজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক প্রভাব, নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, এবং শহর ব্যবস্থাপনায় সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়ার মতো অভিযোগ জনগণের মধ্যে ব্যাপকভাবে আলোচিত। অতি সত্বর এর বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়া প্রয়োজন। নয়তো দেশের এবং বিশেষ করে সেবা দানকারী এই প্রতিষ্ঠানের অপূরণীয় ক্ষতি হবে। পাশাপাশি অবৈধ পথে আয় করা টাকা বিদেশে পাচার করে এরা যেন পালিয়ে যেতে না পারে য়ে জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে অবহিত করতে হবে। আর সর্বোপরি এই সমালোচিত প্রশাসককে জরুরি ভিত্তিতে আইনের আওতায় আনতে হবে। প্রশাসক তার বিশেষ অনুগত কর্মকর্তাদের দিয়ে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে অভি গোপনীয়তার সাথে এই বরাদ্দ কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।
৮, খিলগাঁও তালতলা সুপার মার্কেটে পার্কিং স্থানে দোকান নির্মাণ: আগুন ও স্থাপত্যগত ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও কেবল মাত্র আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জনা পার্কিংয়ের জায়গায় ২১৯টি নতুন দোকান নিয়ম নীতি উপেক্ষে করে প্রশাসক-সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বরাদ্দ প্রদান করেন।
উপরোক্ত অভিযোগ ছাড়াও প্রশাসক এজাজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক প্রভাব, নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, এবং শহর ব্যবস্থাপনায় সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়ার মতো অভিযোগ জনগণের মধ্যে ব্যাপকভাবে আলোচিত। দ্রুত প্রশাসকের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়া প্রয়োজন। নয়তো দেশের এবং বিশেষ করে সেবা দানকারী এই প্রতিষ্ঠানের অপূরণীয় ক্ষতি হবে। পাশাপাশি অবৈধ পথে আয় করা টাকা বিদেশে পাচার করে এরা যেন পালিয়ে যেতে না পারে য়ে জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে অবহিত করতে হবে। এই সমালোচিত প্রশাসককে জরুরি ভিত্তিতে আইনের আওতায় আনতে হবে নতুবা রাষ্ট্রের অনেক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
আ. দৈ./কাশেম