রাজধানীর গুলশানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নগর ভবনে প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বোর্ড সভায় কাওরান বাজারের অর্ধশতাধিক ব্যবসায়ী জোরপূর্বক ঢুকেই কয়েক কোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উপস্থাপন করেন। একই সাথে উচ্চস্বরে সংক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করে বলতে থাকেন, প্রশাসকের আত্মীয় মাহবুবুর রহমান দোকান দেওয়ার কথা বলে প্রশাসকের নামে টাকা নিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শিরা আরো জানান, প্রশাসকের আত্মীয় মাহবুবুর রহমান প্রশাসকের নাম ব্যবহার করে ব্যবসায়ীদেরকে দোকান দেওয়ার নামে কয়েক দফায় ৫/৬ কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছেন। এখনো দোকান দেওয়ার কোন খবর নেই। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নেওয়া সমুদ্বয় টাকা ফেরত দিতে হবে এবং মাহবুরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
ব্যবসায়ীদের এই অভিযোগ এবং হট্টোগোলের ঘটনায় ওইসময় প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ ও ডিএনসিসির বোর্ড সভায় অংশ গ্রহণকারী ডিএনসিসির বিভাগীয় প্রধান, মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা বিব্রতকর পরিস্থিতে পড়েন।
প্রশাসক এক পর্যায়ে সংক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীদের বলেন, যে লোক ৫/৬ কোটি টাকা নিয়েছেন তার ছবি এবং নাম পরিচয় দেন। এই বিষয়টি নিয়ে আপনাদের সাথে পরে কথা বলবো। আপনাদের অভিযোগ শুনবো এবং এই বিষয়টি অবশ্যই দেখবো। আপনারা এখন বাইরে চলে যান।
প্রশাসক এবং কর্মকর্তাদের অনুরোধে আশ্বস্ত হয়ে ব্যবসায়ীরা সভা কক্ষ থেকে বাইরে এসে অপেক্ষা করতে থাকেন। কিন্তু সভা শেষে প্রশাসক ব্যবসায়ীদের আর সময় দেননি। তবে এই বিষয়টি নিয়ে আরেকদিন প্রশাসক ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক করার ঘোষণা দিলে তারা চলে যান।
আজ গাড়ি ভরে এসে কাওরান বাজারের শতাধিক ব্যবসায়ী প্রথমে ডিএনসিসির লশান-২ নম্বরে নগর ভবনের সামনে এসে জড়ো হন। পরে তারা নগর ভবনে বোর্ড সভায় দলবেধে জোরপূর্বক ঢুকে পড়েন এবং উচ্চস্বরে বলতে থাকেন, তাদেরকে দোকান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রশাসকের নামে টাকা নিয়েছেন মাহবুবুর রহমান।
আ. দৈ./কাশেম