সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে হত্যাচেষ্টার মতো আলোচিত মামলার অন্যতম আসামি আব্দুল আউয়াল গংরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং আগের মত সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা হলেন- আব্দুল আউয়াল, আব্দুল্লাহ, জালাল মিয়া, মকবুল হোসেনসহ আরো অনেকে। দিনের পর দিন তারা এলাকায় অবাধে চলাফেরা করলেও আইনানুগ ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, গত শনিবার আউয়ালদের ইশারায় নবীনগরের মনিপুর গ্রামে রক্তক্ষয়ী এক সংঘর্ষে দুজন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি আছেন। আইনের চোখে পলাতক এমন গুরুত্বপূর্ণ মামলার আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি দিনের পর দিন এভাবে ঘুরে বেড়াতে পারেন, তাহলে দেশের বিচার ব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর থেকে মানুষের আস্থা কমে যায়।
এদিকে প্রশ্ন উঠেছে যারা চার্জশিট থেকে অব্যাহিত পেলেন তারা সকলেই কি নির্দোষ। ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে জুলাই আন্দোলনের মামলা থেকে আওয়ামী লীগের দোসর ও চিহ্নিত পদধারী নেতারাও অব্যহতি কিভাবে পেল তা নিয়ে জনমনে নানা সমালোচনা চলছে। অনেকে বলছেন মোটা অংকের টাকায় ম্যানেজে হয়ে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারি কর্মকর্তা এসব আওয়ামী দোসরদের বাঁচিয়ে দিয়েছেন।
জানা গেছে, শাহবাগ থানায় দায়েরকৃত একটি মামলা থেকে গত ২৩ ডিসেম্বর পাঁচ আসামীকে অব্যাহিত দেয়া হয়। এরা হলেন- মো. আব্দুল আউয়াল, জাফরুল হক, খোন আচার্য হৃদয়, জালাল মোল্লা, আব্দুল্লাহ ও মকবুল হোসেন। অথচ আব্দুল আউয়াল আওয়ামী রীগের পদদধারি নেতা ছিলেন। তাকে আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতার সঙ্গে ছবি রয়েছে। এছাড়া এই আব্দুল আউয়াল ডিএমপির চার থানা ও ফতুল্লা থানায় দায়েরকৃত মামলার এজাহারভুক্ত আসামী।
স্থানীয় সূত্র বলছে, বেগম খালেদা জিয়ার হত্যাচেষ্টা মামলার আসামী এই আব্দুল আউয়াল ও জাফরুল হক নবীনগর এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরছে। শুধু তাই নয় মামলার চার্জশিট থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর তারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এদের মধ্যে অনেকে বিএনপি নেতাদের আঁতাত করে চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকার সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ অবিলম্বে এই আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।