গাজীপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়েছে। তবে অল্পের জন্য তিনি বেঁচে গেলেও দুর্বৃত্তরা তার মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে নগরের জোগিতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী হাবিব চৌধুরী দলটির গাজীপুর মহানগর কমিটির সদস্য এবং নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ব্রাহ্মণ বাউগা গ্রামের বাসিন্দা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছন বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশীদ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাবিব চৌধুরী তার নিজের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল বিক্রির জন্য অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেন। সেখান থেকে দুজন তার সঙ্গে যোগাযোগ করে মোগড়খাল এলাকায় মোটরসাইকেলটি দেখতে আসে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী তারা নানাভাবে মোটরসাইকেলটি পর্যবেক্ষণ করে।
একপর্যায়ে তারা হাবিব চৌধুরীর কাছে গিয়ে এক রাউন্ড গুলি ছুড়ে এবং মোটরসাইকেল চালিয়ে পালিয়ে যায়। হাবিব মোটরসাইকেলের পিছনে দৌড় দিলে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে আরেকটি রাউন্ড গুলি ছুড়ে। তবে গুলি তার শরীরে লাগেনি। এ ঘটনার পর এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে হাবিব চৌধুরী বলেন, ‘মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে তারা আমার সঙ্গে দেখা করে। টেস্ট করার কথা বলে একজন উঠে পড়ে এবং অপরজন আমাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। সৌভাগ্যক্রমে গুলি লাগেনি। এরপর তারা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। আমি এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
এ বিষয়ে এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও গাজীপুর-২ আসনের এনসিপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আলী নাছের খান বলেন, ‘এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা। ট্রাপ সাজিয়ে জুলাই আন্দোলনকারী জুলাইযোদ্ধা হাবিব চৌধুরীকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করা হয়। তার শরীরে গুলি লাগলে তিনিও হাদির মতো শহিদ হতেন। শহিদ হাদিকে যেভাবে গুলি করা হয়েছিল ঠিক হাবিব চৌধুরীকেও একইভাবে গুলি করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা অংশগ্রহণ করেছে তারা কেউই নিরাপদ নয়। রাষ্ট্র নিরাপত্তা দিচ্ছে না। রাজনৈতিকদলগুলো আমাদের হত্যাযজ্ঞ করে তুলছে।’
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ১২ ঘণ্টার মধ্যে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং এর সঙ্গে জড়িতদেরও আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিার দাবি জানান তিনি। বাসন থানার ওসি হারুনুর রশিদ বলেন, ‘ঘটনার বিষয়টি আমরা জেনেছি। পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।