বিক্ষোভকারীদের চিহ্নিত করে তাদের সম্পদ জব্দ করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দেশটির প্রসিকিউটর মুহাম্মদ মোভাহেদি আজাদ জানান, আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জব্দকৃত সম্পদ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে বিক্ষোভ চলছে। অর্থনৈতিক সংকটের জেরে এ বিক্ষোভ শুরু হলেও পরে তা সরকারবিরোধী আন্দোলনে পরিণত হয়। ইরানের দাবি, তাদের শত্রুরা বিক্ষোভে উসকানি দিচ্ছে।
বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর ইরানে ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। প্রায় পাঁচ দিন ধরে দেশটিতে ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় বিদেশ থেকে ইরানের বিক্ষোভের প্রকৃত চিত্র বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি’ জানিয়েছে, ইরানে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২ হাজার ৫৭১-এ দাঁড়িয়েছে। তাদের মধ্যে ১২টি শিশুও রয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ভোরে নিহতের এ সংখ্যা জানায়।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের হাতে থাকা তথ্যানুযায়ী, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ২ হাজার ৪০৩ বিক্ষোভকারী ও ১৪৭ সরকারসংশ্লিষ্ট বাহিনীর (আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী) সদস্য।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১২টি শিশুও রয়েছে। এ ছাড়া এমন ৯ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যারা বিক্ষোভে অংশ নেননি। বিক্ষোভের মধ্যে ১৮ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।
নিহতের এ সংখ্যা গত কয়েক দশকে ইরানে হওয়া যেকোনো বিক্ষোভ বা অস্থিরতার সময়কার মৃত্যুসংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। এবারের বিক্ষোভ দেশটিতে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতির স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে। যদিও ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, গত বৃহস্পতিবার থেকে টানা কয়েক রাত ধরে চলা বিক্ষোভ তারা এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে।
আ.দৈ/আরএস