ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (জিএম কাদের), জাতীয় পার্টির (একাংশ) আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং জেপির আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের (এনডিএফ) প্রার্থীদের অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না-তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এসব প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হবে কি না, সে বিষয়েও রুল দিয়েছেন আদালত।
রোববার (১১ জানুয়ারি) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির।
এর আগে গত ৭ জানুয়ারি এ বিষয়ে রিটের প্রাথমিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেদিন বিষয়টি আরও শুনানির জন্য ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতবি (স্ট্যান্ডওভার) রাখা হয়। আজ শুনানি শেষে আদালত রুল জারির আদেশ দেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ভোলার বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল মাহমুদ গত ৪ জানুয়ারি হাইকোর্টে এই রিট আবেদন করেন। রিটে আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশন সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিটকারীর আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির আদালতকে জানান, জাতীয় পার্টি (জিএম কাদের) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৪৩টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। গত ২৬ ডিসেম্বর ঢাকার গুলশানের একটি হোটেলে দলটির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে জাতীয় পার্টির (আনিসুল ইসলাম মাহমুদ) অংশ এবং জেপির আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বে গঠিত নতুন রাজনৈতিক জোট জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) ১১৯টি আসনে মোট ১৩১ জন প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এর আগে গত ২৩ ডিসেম্বর রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জাতীয় পার্টির নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।
রিট দায়েরের কারণ ব্যাখ্যা করে ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির বলেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোট—যা মহাজোট নামে পরিচিত—জাতিসংঘের প্রতিবেদনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। এই মহাজোটে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ/ইনু), জাতীয় পার্টি (এরশাদ), জাতীয় পার্টি (মঞ্জু), তরিকত ফেডারেশনসহ মোট ১৪টি দল ছিল।
তার দাবি, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উল্লিখিত অপরাধে এসব দলও জড়িত থাকায় বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬(২)(ঙ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দল ও তাদের প্রার্থীরা সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য। এই যুক্তিতেই তাদের নির্বাচন থেকে বিরত রাখা ও প্রার্থিতা বাতিলের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।