ছাত্র জনতার গণআন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানার দুই মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা সরকারি প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগের মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিচারিক বিশেষ জজ আদালতে ওই মামলায় একমাত্র আত্মসমর্পণকারী আসামি রাজউকের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। এই মামলাটির যুক্তিতর্কের জন্য আগামী ১৩ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ঢাকার বিশেষ জজ-৪ আদালতে বিচারক রবিউল আলমের আদালতে আসামি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম আত্মপক্ষ সমর্থনে মৌখিকভাবে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তবে তিনি কোনো লিখিত বক্তব্য দেননি। শুনানি শেষে মামলাটির যুক্তিতর্কের জন্য আগামী ১৩ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের পাবলিক প্রসিকিউটর হাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গত ৫ জানুয়ারি একই আদালত মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করেন। ওইদিন আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া সাক্ষ্য দেন। পরে আসামি খুরশীদ আলমের পক্ষে তার আইনজীবী শাহিন উর রহমান তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জেরা করেন। জেরা শেষে আদালত সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ ঘোষণা করেন। এ মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ মোট ৩১ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি আজমিনা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া। ওই মামলায় শেখ হাসিনা ও টিউলিপ সিদ্দিকসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়।
তদন্ত শেষে গত বছরের ১০ মার্চ আরও দুজনকে যুক্ত করে মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন— জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী আনিছুর রহমান মিঞা, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), রাজউকের সাবেক পরিচালক নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, পরিচালক কামরুল ইসলাম এবং উপ-পরিচালক নায়েব আলী শরীফ।
পরে যুক্ত হওয়া দুই আসামি হলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।
আ. দৈ./কাশেম