ঢাকা জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সক্রিয় থাকা ব্যক্তিত্ব, সমন্বয়ক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আন্দোলনের সম্মুখসারিতে থাকা বেশ কয়েকজনকে ইতোমধ্যে গানম্যান (নিরাপত্তারক্ষী) দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের আত্মরক্ষার প্রয়োজনে ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পুলিশের উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, নিরাপত্তার তালিকায় রয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়ক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম এবং সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫ জন রাজনীতিবিদ গানম্যান ও অস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছেন। এই তালিকায় রয়েছেন: জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান,ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ,এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ,জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব ইউনুস আহম্মেদ সেখ।
এছাড়াও শহীদ ওসমান হাদির পরিবারকে বিশেষ নিরাপত্তা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি প্রায় ২৫ জন সরকারি কর্মকর্তাও অস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন জানিয়েছেন।
পুলিশের আইজি বাহারুল আলম জানান, যারা সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছেন, তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অস্ত্রধারী রক্ষী দেওয়া হয়েছে। তবে পুলিশের একজন কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, সমন্বয়কদের অনেকেই ছাত্র এবং তারা রিকশা বা পাবলিক পরিবহনে যাতায়াত করেন, যা গানম্যানদের ডিউটি পালনে কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, "সবাই ঝুঁকিতে নেই। তবে যারা পটেনশিয়াল থ্রেটের সম্মুখীন, তাদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য আমরা জেলা এসপি ও মেট্রোপলিটন কমিশনারদের নির্দেশ দিয়েছি।"
বর্তমানে ডিএমপি এবং এসবির পক্ষ থেকে অস্থায়ীভাবে এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে তাদের স্থায়ী নিরাপত্তার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।