ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদকে ভারতে পালিয়ে যেতে সহায়তাকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সেই ২ আসামিকে রিমান্ডে দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ডপ্রাপ্ত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওই ২ আসামি হলেন- সিবিয়ন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম। তাদের দু’জনকেই ৩ দিনের রিমান্ডে দিয়েছেন আদালত।এর আগে অবৈধ পথে ফয়সালকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তাকারী ওই দু’জনকে ৭ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মতিঝিল থানার পুলিশ পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ। পরে শুনানি শেষে আদালত তাদের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড আবেদনে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সিবিয়ন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টা মামলার এজাহারনামীয় আসামি (ফয়সাল) ও তার সহযোগী অজ্ঞাতনামা আসামিদের অবৈধ পথে ভারতে পালাতে সহায়তা করেছেন বলে সাক্ষ্যপ্রমাণ ও প্রযুক্তির সহযোগিতায় তথ্য মিলেছে। এরমধ্যে সিবিয়ন দিউ ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ও ধোবাউরা উপজেলার সাবেক আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য জুয়েল আড়েংয়ের ভাগনে। দীর্ঘসময় ধরে তিনি হালুয়াঘাট, ধোবাউরা ও শেরপুর এলাকায় অবৈধ পথে মানুষ ও মালামাল পারাপারের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা অন্য আসামিরা কাদের পরিকল্পনা ও পরামর্শে সীমান্ত পার করে দিয়েছেন, তা জানা প্রয়োজন। এছাড়াও ওসমান হাদির ওপর হামলার পরিকল্পনাকারী ও জড়িত অন্যদের শনাক্ত করার পাশাপাশি হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার, ঘটনার পূর্বপরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও মদদদাতাদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন। এজন্য তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করে। ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছিলেন তিনি।
ওইদিন মোটরসাইকেলে করে এসে দুইজন তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জানা যায়, গুলি ওসমান হাদির মাথার ডান দিক থেকে ঢুকে বাম পাশ দিয়ে বের হয়ে গেছে, তবে অংশবিশেষ এখনও তার ব্রেনে রয়েছে।
এই অবস্থার মধ্যেই পরিবারের ইচ্ছায় তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল। সবশেষ সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়েছে ওসমান হাদিকে। সিঙ্গাপুরে হাদির সঙ্গে আছেন তার ভাই ওমর বিন হাদি এবং বন্ধু আমিনুল হাসান ফয়সাল।