ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে টার্গেটকৃত শতাধিক ব্যক্তিকে গোপনে ধরে নিয়ে ‘গুম-নির্যাতন ও খুনের সুনিদিষ্ট অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্তদের বিচার শুরু হচ্ছে। এরমধ্যে সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন বিচারিক আদালত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যাল। একই সাথে অভিযোগ আমলে নিয়ে আনুষ্ঠানিক চার্জ (অভিযোগ) গঠনের বিষয়ে আগামী ২১ ডিসেম্বর শুনানির দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
আজ বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই অভিযোগ আমলে নেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়ার আবেদন করেন এবং একই সঙ্গে আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার আবেদন জানান। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে আগামী ২১ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে বিচার বর্হিভূতভাবে ১০০ জনকে হত্যার প্রমাণ মিলেছে বলে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগের মধ্যে রয়েছে। এ ছাড়াও আরও ৪০০ জনকে হত্যার অভিযোগের তদন্ত চলছে।
ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ উপস্থাপনকালে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ৫০০-এর বেশি মানুষকে গুম করে হত্যা করার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১০০-এর বেশি মানুষকে গুম ও হত্যার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে এই তিনটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে।
সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে গত বছরের আগস্টে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জিয়াউল আহসান বর্তমানে কারাগারে আছেন।
আ. দৈ./কাশেম