রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার,অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে রাজউকের পূর্বাচল স্বপ্নের নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেওয়ার সুনিদিষ্ট অভিযোগে দুদকের এক মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা, ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আগামী ১ ডিসেম্বর রায়ের দিন নির্ধারণ করেছেন বিচারিক বিশেষ জজ আদালত। দুদকের আইনজীবী গণমাধ্যমকে জানান,এই মামলায় আসামিদের ১০ বছরের সাজা হতে পারে।
আজ মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪–এর বিচারক মো. রবিউল আলম রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আগামী ০১ ডিসেম্বর এই মামলায় রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেন। এটা হলো শেখ হাসিনা ও শেখ পরিবারের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে তৃতীয় রায় হতে যাচ্ছে। আগামী ২৭ নভেম্বর দুদকের করা রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৩০ কাঠার ৩ প্লট জালিয়াতির মামলায় শেখ হাসিনা, তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজে পুতুলের বিরুদ্ধে রায় হবে।
এদিকে বিচারিক আদালতের বেঞ্চ সহকারী বেলাল হোসেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন দুদকের মামলার সাক্ষ্য ও নথিপত্রে অভিযোগ ওঠে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার অপব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে তার ছোট বোন শেখ রেহানাকে ১০ কাঠার একটি প্লট বরাদ্দ দেন।
দুদকের আইনজীবীরা জানান,সাক্ষ্য অনুযায়ী,পূর্বাচলে পরিবারের জন্য প্লট বরাদ্দের জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক ও শেখ রেহানা চাপ প্রয়োগ করেন। পরে মিথ্যা হলফনামার ভিত্তিতে রেহানাকে রাজউকের ১০ কাঠা সরকারি জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব অভিযোগে শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, টিউলিপ সিদ্দিকসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে দুদক মামলা করে।
মোট ৩২ জন সাক্ষীর জবানবন্দি, অবৈধ নির্দেশনামা ও ভুয়া হলফনামাসহ বিভিন্ন প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করেছে দুদক। যুক্তিতর্ক শেষে বিচারক আগামী ১ ডিসেম্বর রায়ের তারিখ ধার্য করেন।
সাক্ষীদের জবানবন্দিতে আরও উঠে আসে, মায়ের নামে প্লটের দাবিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর ওপর চাপ সৃষ্টি করেন টিউলিপ সিদ্দিক। নিজে প্লট না নিলেও ওই প্রভাব খাটানোর কারণে তিনি মামলার অন্যতম আসামি। দুদকের আইনজীবীদের মতে, রায়ে শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা এবং টিউলিপ সিদ্দিক—তিনজনেরই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
মামলার একমাত্র গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাবন্দি আসামি রাজউকের সাবেক কর্মকর্তা খুরশিদ আলমের আইনজীবী যুক্তিতে বলেন, তিনি সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে ঊর্ধ্বতনের নির্দেশ পালনে বাধ্য ছিলেন।
এ মামলায় অপরআসামিরা হলেন-জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউক-এর সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), সাবেক পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, উপ-পরিচালক নায়েব আলী শরীফ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।
উল্লেখ্য চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি দুদকের উপ-পরিচালক সালাহউদ্দিন বাদী হয়ে অভিযুক্তদেও বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পওে তদন্ত শেষে গত ১০ মার্চ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া। গত ৩১ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন। বিচার চলাকালে এই মামলায় ৩২ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন।
আ. দৈ./কাশেম