র্যাব-৪ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব আলম বুধবার (১৯ নভেম্বর) বিকেলে কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে জানান, হত্যাকাণ্ডটি পল্লবীর রাজনৈতিক কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারের কারণে সংঘটিত হয়েছে। এটি সুপরিকল্পিত হত্যা এবং এতে বড় অংকের অর্থ লেনদেন হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজন মিরপুর কেন্দ্রিক গড়ে ওঠা ‘ফোর স্টার’ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য।
র্যাব জানায়, সোহেল ওরফে পাতা সোহেল ও সুজন পেশাদার হত্যাকারী এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। পাতা সোহেলের নামে মোট ৮টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে হত্যাকাণ্ড, ডাকাতি ও মাদক সংক্রান্ত মামলাও রয়েছে।
র্যাব কর্মকর্তা আরও জানান, হত্যাকাণ্ডে মিরপুর এলাকা কেন্দ্রিক আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি-মাদক ও রাজনৈতিক কোন্দল মূল মোটিভ হিসেবে কাজ করেছে। নিহত গোলাম কিবরিয়া একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য সচিব হিসেবে এলাকায় সক্রিয় ছিলেন এবং রাজনৈতিকভাবে তিনি কিছু কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করেছিলেন।
ঘটনার দিন, ১৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় বিক্রমপুর স্যানিটারি ও হার্ডওয়্যার দোকানে ছয়জন অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসী প্রকাশ্যে পিস্তল চালিয়ে গোলাম কিবরিয়াকে হত্যা করে। পালানোর সময় তারা স্থানীয় জনতার ওপরও গুলি চালায়, যার ফলে একজন রিকশাচালক গুরুতর আহত হন। পরে জনতা একজন সন্ত্রাসী—জনি ভূইয়াকে আটক করে পল্লবী থানায় হস্তান্তর করে।
র্যাব ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হত্যাকারীদের শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারের জন্য তৎপর হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৮ নভেম্বর রাতে সাভারের বিরোলিয়া এলাকা থেকে সোহেল ওরফে পাতা সোহেল এবং টঙ্গী পশ্চিম থানার মাজার বস্তি এলাকা থেকে সুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।