আগামীকাল রোববার (১২ অক্টোবর) ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা,সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হচ্ছে। এটা হলো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের হওয়া প্রথম গণহত্যা মামলার বিচার চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছেছে। এর পরেই আসামিদের বিরুদ্ধে সন্দেহাতীতভাবে অভিযোগ প্রমাণের ভিত্তিতেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ঐতিহাসিক রায় ঘোষণার দিন ধার্য করবেন।
এদিকে গত ৯ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনি আসামির বিরুদ্ধে উক্ত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শেষ সাক্ষী মো. আলমগীরকে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর জেরা সম্পন্ন করেছেন। বিচারিক আদালতে থেমে থেমে ২৮ কার্যদিবসে এই মামলার ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।
গত ৯ অক্টোবর বিচারিক আদালত এই মামলায় উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামী ১২ অক্টোবর ধার্য করা হয়। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলেই রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হবে।
উল্লেখ্য, রাজধানীসহ সারাদেশে বিগত ১৫ বছর যাবৎ বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈক দল,ছাত্র সংগঠন এবং নানা শ্রেনিও পেশাজীবীদের উপর অমানবিক নির্যাতন,মিথ্যে মামলায় হয়রানী,নির্বিচারে হত্যা, গুম, অপহরণ করে আয়নাঘরে আটকে নির্যাতনের লোমহর্ষক ঘটনার অসংখ্য নজির স্থাপন করেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ত্বাধীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা।
এদিকে গতবছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার বিরুদ্ধে জুলাইয়ে ছাত্র জনতার অসহযোগ আন্দোলন ৫ আগস্ট অভ্যুত্থানে রুপ নেয়। এই আন্দোলনকে দমন করতে রাজধানী ঢাকা সহ সারাদেশে আইনশৃঙ্খল বাহিনী এবং সরকার দলীয় সন্তাসীরা গুলি করে নির্বিচারে গণহত্যা,ধরে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন,অপহরণসহ জগন্যতম মানবতা বিরোধী অপরাধ করেছে।
গত বৃহস্পতিবার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অপরাধ ট্রাইব্যুনাল চত্বরে প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, তদন্ত কর্মকর্তার জেরা শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। বিচারিক আদালতে ৫৪ জন সাক্ষী উপস্থাপন করা হয়েছে। সাক্ষীদের জবানবন্দির মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েচেন তারা।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আমির হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি সাক্ষীদের জবানবন্দিতে এখন পর্যন্ত যা এসেছে, তাতে আমার আসামিদের নির্দোষ প্রমাণ করতে পারবো’।
এ মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি বাকি দুই আসামি হলেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও সাবেক পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। এর মধ্যে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন নিজে দোষ স্বীকার করে এই মামলায় রাজসাক্ষী হয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন। জেরার সময় রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামীম প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গতবছর জুলাই-আগস্ট ছাত্র জনতার অসহযোগ আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানকালে রাজধানী ঢাকা সহ সারাদেশে আইনশৃঙ্খল বাহিনী এবং সরকার দলীয় সন্তাসীদের গুলিতে প্রায় দুই হাজার নিরীহ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়। আহত করা হয় আরো ২০/২৫ হাজার মুনুষ।ওইসব মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের হওয়া অনেকগুলো মামলার মধ্যে সর্বপ্রথম মামলার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা,সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে এক মামলায় ৫৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। আরো বেশ কয়টি মামলায় তাদেরকে আসামি করা হয়েছে।
প্রথম এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন তদন্ত সংস্থার উপ-পরিচালক মো. জানে আলম খান। পরে তদন্ত করেন উপ-পরিচালক মো. আলমগীর। সার্বিক সহযোগিতা করেছিলেন বিশেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা। এ ঘটনায় তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীর গত ১২ মে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরবর্তীতে ৩১ মে সম্পূরক অভিযোগ দেওয়া হয়। ১ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়। গত ১০ জুলাই এ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
আ. দৈ./কাশেম