বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা, গত বছর জুলাই- আগস্ট সারাদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলন দমাতে গিয়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ব্যাপক গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। ওইসব গনহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় অভিযুক্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা,সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সাবেক আইজিপির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ ৫৪তম সাক্ষী হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তা মো.আলমগীরের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। এই তদন্ত কর্মকত মামলার সবশেষ সাক্ষী।
সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে করা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সর্বশেষ সাক্ষী হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীর জবানবন্দি দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ দেওয়া এ জবানবন্দির অংশ হিসেবে তিনি ১৭টি ভিডিও উপস্থাপন করেন এবং সেগুলো দেখানো হয়।
আজ রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার পর থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলার সর্বশেষ সাক্ষী হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তা মো.আলমগীরের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। দুপুর পৌনে ২টার দিকে ট্রাইব্যুনাল বিরতিতে যান। পরে আবার জবানবন্দি নেওয়া শুরু হয়। অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ গণহত্যা সংক্রান্ত ও মানবতা অপরাধের প্রমাণ হিসেবে বিভিন্ন ঘটনার ১৭টি ভিডিও সহ তথ্য প্রদর্শন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। এটি গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে।
সাক্ষী আলমগীর শুরুতে ট্রাইব্যুনালে নিজের পরিচয় দেন। তারপরই প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, জবানবন্দির সময় কিছু ভিডিও দেখানোর প্রয়োজন হবে। সেসব ভিডিও একসঙ্গে শুরুতেই দেখাতে চাইলে ট্রাইব্যুনাল সম্মতি দেয়। এরপর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় আবু সাঈদ হত্যাসহ বিভিন্ন ঘটনার ১৭টি ভিডিও দেখানো হয়।
ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, জবানবন্দির সময় ট্রাইব্যুনালের সম্মতি নিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভিন্ন ঘটনার ১৭টি ভিডিও দেখানো হয়। এ বিচার কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার উপপরিচালক আলমগীর। তিনি এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
এ মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি আরও দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। এর মধ্যে মামুন রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল রোববার তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ৫৩তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন এ মামলার বিশেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা। তিনি জানান, শেখ হাসিনার ফোনালাপের ৬৯টি অডিও ক্লিপ এবং তিনটি মোবাইল নম্বরের কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে চারটি ফোনালাপ বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ বাজিয়ে শোনানো হয়। যেটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে।
শেখ হাসিনার এ চারটির ফোনালাপের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও তার আত্মীয় শেখ ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে একটি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে দুটি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এ এস এম মাকসুদ কামালের সঙ্গে একটি ফোনালাপ রয়েছে।
এ মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার উপ-পরিচালক মো. জানে আলম খান। পরে তদন্ত করেন উপ-পরিচালক আলমগীর। সার্বিক সহযোগিতা করেন বিশেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা জোহা।
তদন্ত কর্মকর্তা আলমগীর গত ১২ মে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরবর্তীতে ৩১ মে সম্পূরক অভিযোগ দেওয়া হয়। ১ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়। ১০ জুলাই মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে সাবেক আইজিপি মামুন নিজেকে রাজসাক্ষী হিসেবে আবেদন করলে তা মঞ্জুর করেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর ৩ আগস্ট থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়।
এরআগে ৩১ মে সম্পূরক অভিযোগ দেওয়া হয়।গত ১ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়। গত ১০ জুলাই এ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে সাবেক আইজিপি মামুন নিজেকে ‘অ্যাপ্রুভার’ (রাজসাক্ষী) হিসেবে যে আবেদন করেছেন, তা মঞ্জুর করেন ট্রাইব্যুনাল
আ. দৈ./কাশেম