বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬,
১৬ মাঘ ১৪৩২
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
রাজনীতি
শেরপুর হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিবৃতি, প্রতিক্রিয়া জানাল জামায়াত
নিজেস্ব প্রতিবেদক
Publish: Thursday, 29 January, 2026, 5:27 PM  (ভিজিট : 24)

শেরপুরে তুচ্ছ ঘটনায় সংঘটিত সহিংসতা ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মাওলানা রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলকে দায়ী করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি এক সংবাদ সম্মেলনে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সূত্রপাতসহ বিস্তারিত তুলে ধরে দলটি।

সংবাদ সম্মেলনে শেরপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংস ঘটনার প্রতিবাদে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। পরে লিখিত বক্তব্য শেষে তিনি বলেন, বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলের উসকানি ও সরাসরি নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে আমরা মনে করি। সেখানে বিএনপির সন্ত্রাসীরা আগেই থেকে জামায়াত ও ১১ দলীয় প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলকে হত্যার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিল।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জামায়াতের এই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সেখানে কর্তব্যরত ইউএনও ও পুলিশ প্রশাসন সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অবস্থান না নিয়ে নীরবতা পালন করেছে। এতে প্রমাণিত হয় প্রশাসন একদিকে হেলে পড়েছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলে কিছু থাকবে না এবং নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে এখনই সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে বিএনপির সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

এর আগে লিখিত বক্তব্যকালে শেরপুরের ঘটনার সূত্রপাত ও বিবরণ তুলে ধরেন অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেন, বুধবার (২৮ জানুয়ারি) শেরপুরের ঝিনাইগাতি উপজেলায় ঘটে যাওয়া ঘটনা নির্বাচনের উৎসবমুখর পরিবেশকে ম্লান করে দিয়েছে। এদিন উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ঝিনাইগাতি ও শ্রীবরদী উপজেলা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি আসনের প্রার্থীদের নিয়ে ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

তবে এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির একদল উগ্র ও উচ্ছৃঙ্খল নেতা-কর্মীদের অব্যাহত উসকানির কারণে ১১ দলীয় জোট ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শ্রীবরদী উপজেলা সেক্রেটারি রেজাউল করিমকে কুপিয়ে হত্যা করে বিএনপির একদল সন্ত্রাসী ও গুন্ডাবাহিনী।


ঘটনার সূত্রপাত

ঘটনার সূত্রপাত তুলে ধরে জামায়াতের এই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ঝিনাইগাতি ও শ্রীবরদী উপজেলা মিলিয়ে শেরপুর-৩ আসন। বুধবার দুপুর আড়াইটায় শেরপুরের ঝিনাইগাতি স্টেডিয়াম মাঠে শেরপুর-৩ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার উদ্যোগে সব প্রার্থীর ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠান ছিল। যথারীতি জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল নেতাকর্মীদের নিয়ে যথাসময়ে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন এবং আসন গ্রহণ করেন। পরে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলসহ তার সমর্থক-কর্মীরা অনেক বিলম্বে আসেন।

ওই সময় বিএনপি নেতারা ইউএনওকে অর্ধেক অর্ধেক আসন ভাগ করে দিতে বলেন। এরপর ইউএনও জামায়াত প্রার্থীকে অনুরোধ করেন কিছু চেয়ার ছেড়ে দিতে। পরে জামায়াত ও ১১ দলীয় প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মাইকে কর্মীদের আসন ছাড়তে বলেন। তবে জামায়াতের কর্মীরা চেয়ার ছেড়ে দেয়ার পরও বিএনপির উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মী বাকবিতণ্ডা শুরু করে। সেই সঙ্গে ওই আসনের বিএনপির প্রার্থী মাহবুবুল হক রুবেল, বিএনপি নেতা আব্দুর হান্নানসহ বিএনপির উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মী অব্যাহত উসকানি দিতে থাকে। এতে বিএনপির নেতাকর্মীরা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এই অবস্থায় পুলিশ প্রশাসন বিএনপির নেতাকর্মীদের নিবৃত্ত না করে নিষ্ক্রিয় দর্শকের ভূমিকা পালন করে।

সংঘর্ষের একপর্যায়ে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলসহ নেতাকর্মীরা স্টেডিয়াম থেকে বেরিয়ে দক্ষিণে ঝিনাইগাতী বাজারে অবস্থান নেয়। অন্যদিকে মাঠে অবস্থান করে জামায়াত ও ১১ দলের প্রার্থী ও সমর্থকরা। এ সময় বিএনপি সমর্থক ফাহমী গোলন্দাজ সোহেল ফেসবুকে ‘জামায়াতের বাদলকে পেলে জবাই করা হবে’ এই ধরনের উসকানিমূলক স্ট্যাটাস দেয়।

এই অবস্থায় ঝিনাইগাতি বাজারে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেয় বিএনপি নেতাকর্মীরা এবং জামায়াত ও ১১ দলীয় প্রার্থীকে স্টেডিয়াম থেকে বের হতে না দেয়ার ঘোষণা দেয়। পরে সেখানে থাকা বিএনপি নেতাদের পুলিশ প্রশাসন রাস্তা ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ করলে তারা অস্বীকৃতি জানায়। এই অবস্থায় মাইকে বিএনপি নেতাকর্মীরা অব্যাহত উসকানি দিতে থাকে, যাতে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

পরবর্তীতে প্রশাসনের কোনো সহযোগিতা না পেয়ে সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে ঝিনাইগাতী স্টেডিয়াম এলাকায় থাকা জামায়াত ও ১১ দলীয় জোট প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল নেতাকর্মীদের নিয়ে বাজারে প্রবেশের চেষ্টা করেন। ওই সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তাদের প্রতিরোধ করতে গেলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে জামায়াত নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকের রাস্তা এবং উত্তরে স্টেডিয়ামের দিকে চলে যান। তবে ওই সময় জামায়াতের শ্রীবরদী উপজেলা সেক্রেটারি রেজাউল করিম পেছনে পড়ে যান। তখন তাকে একা পেয়ে কুপিয়ে আহত করে রেখে যায় বিএনপির কর্মীরা। একপর্যায়ে ময়মনসিংহ মেডিকেলে নেয়ার পথে শাহাদাত বরণ করেন তিনি।

অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, এই সংঘর্ষের ঘটনায় জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৬ জনকে শেরপুরে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এছাড়া গুরুতর আহত ৩ জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। আমরা মনে করি, পুরো ঘটনা প্রবাহে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রথম মারামারির সময় পুলিশ সহযোগিতা করলে ঘটনাপ্রবাহ এতদূর আসত না। সেটা না করে পুলিশ প্রশাসন নিষ্ক্রিয় দর্শকের ভূমিকা পালন করে।

তবে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে এসে সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এজন্য আমরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ওই সময় সেনাবাহিনীর একজন সদস্যও আহত হওয়ায় আমরা তার প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি ও তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।

লিখিত বক্তব্যে জামায়াতের এই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, শেরপুর-৩ আসনে ঘটে যাওয়া অপ্রত্যাশিত ঘটনা পুলিশসহ গোটা প্রশাসনের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আমরা অবিলম্বে শহিদ রেজাউল করিমের হত্যার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে ঝিনাইগাতি উপজেলা প্রশাসনের ব্যর্থতা তদন্তপূর্বক তাদের বিরুদ্ধে জরুরি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, গত কয়েকদিনে সারাদেশে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের প্রচারণায় বাধা দেয়া হয়েছে। অব্যাহতভাবে জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর হামলা ও নিপীড়ন করা হয়েছে। প্রশাসনকে বারবার জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি। আমরা প্রশাসনের এই ধরনের একপাক্ষিক আচরণের প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

এদিন সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ছাড়াও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, এলডিপির সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম নূরে আলম ও যুব বিষয়ক সম্পাদক আমান সুবহান, খেলাফত মজলিসের প্রচার সম্পাদক আবদুল আজিজ খসরু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক এইচ এম জিয়াউল আনোয়ার এবং গণসযোগ ও মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবলু, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির দপ্তর সম্পাদক শহিদুল আলম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জামায়াত নেতা জাহিদুর রহমানসহ বিশিষ্ট সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমান উপস্থিত ছিলেন।

আ.দৈ/আরএস


   বিষয়:  শেরপুর   হত্যাকাণ্ড   নিয়ে   বিবৃতি   প্রতিক্রিয়া   জানাল   জামায়াত  
আপনার মতামত লিখুন:

সর্বশেষ সংবাদ

রূপালী ব্যাংকের সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিমের সভা অনুষ্ঠিত
এনবিআরের অতিরিক্ত কমিশনার তারেকের বিদেশ যেতে নিষেধ, সম্পদ অবরুদ্ধ
সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি চেয়ে প্রধান বিচারপতিকে চিঠি
জামায়াত আমির বেপর্দা নারীদের সঙ্গে সেলফি, চরমোনাই পীরের দাবি
“পাকিস্তান বিশ্বকাপ বয়কট করলে তার স্থানে খেলতে আগ্রহী অন্য দেশ”
আরো খবর ⇒

জনপ্রিয় সংবাদ

বিভাগীয় সভাপতির অনুপস্থিতিতে ইবির নিয়োগ বোর্ড স্থগিত, ওই শিক্ষকের পদত্যাগের দাবি শিক্ষার্থীদের
ডিএনসিসির দুর্নীতিবাজ প্রশাসক এজাজকে দুদকে তলব , ফ্যাঁসে যাচ্ছেন শক্তিশালী সিন্ডিকেট
দেশে নির্বাচনের গণজোয়ার বইছে, ভোটার ও জনগনের নিরাপত্তার আহ্বান-আমান উল্লাহ আমানের
বিশ্বকাপ আয়োজন পরিবর্তনের ইঙ্গিত, স্থান হতে পারে আরব আমিরাত
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডে দরপত্র জালিয়াতি, সিন্ডিকেটের কবজায় ১০০ কোটির কাজ
রাজনীতি- এর আরো খবর
close
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ
নির্বাহী সম্পাদক : তৌহিদুর রহমান

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১১/১/বি উত্তর কমলাপুর, মতিঝিল থেকে প্রকাশিত
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০১৭১২-৫০১২৩৬, ০২-৫৮৩১৬১০৯ , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com
About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৪ আজকের দৈনিক
🔝