ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার ড. মো. আবু হানিফা'র বেতন-ভাতা চালুর বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনা অমান্য করায় রেজিস্ট্রার আয়ুব হোসেনকে স্ব-শরীরে কোর্টে হাজির হওয়ার নির্দেশনা জারি করেছে ।
আগামি ৩ ফেব্রুয়ারি তাকে ব্যাক্তিগতভাবে হাজির হবার দেয়া হয়। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি জাহেদ মনসুরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ সোমবার এ নিদের্শনা জারি করেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী বেলায়েত হোসেন জানান, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিসি ও রেজিস্ট্রার আদালতের সুনিদিস্ট নির্দেশনার পরও উপ-রেজিস্ট্রার ড. মো. আবু হানিফা বেতন-ভাতা না দিয়ে হাইকোর্টের আদেশ লঙ্ঘন করে দীর্ঘদিন ধরে আটকে রেখেছেন। তিনি জানান, ভুক্তভোগী উপ-রেজিস্ট্রার কে বিগত আওয়ামীলীগ ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিএনপি জামায়াত-শিবিরের ক্যাডার আখ্যা দিয়ে একটি বির্তকিত তদন্ত রিপোর্টের সুপারিশের আলোকে বিগত বিগত ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর চাকরির স্থায়ী নিয়োগ আদেশ বাতিল করে তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এর বিরুদ্ধে তিনি উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হলে হাইকোর্ট গত ২ এপ্রিল,২০২৪ রায়ে তার চাকুরিচ্যুতির অফিস আদেশকে (নিয়োগ আদেশ বাতিল) অবৈধ ঘোষণা করে। পরবর্তীতে গত বছরের ৭ আগস্ট, উচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে যোগদান গৃহিতপত্র দিয়ে চাকরিতে পুনর্বহাল করে দাপ্তরিক দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন।
এ বিষয়ে হাইকোর্টের বেতন ভাতা দেওয়ার নির্দেশনা আদেশ দেওয়া সত্ত্বেও উপ রেজিস্টার ড. মো. আবু হানিফাকে বিভিন্ন কৌশলে বেতন ভাতা বন্ধ রাখে। পরিবর্তীতে হাইকোর্ট গতবছর ২৮ মে জারিকৃত রায়ে তার যোগদানের তারিখ বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা প্রদানের আদেশ জারি করে। কিন্তু উচ্চ আদালতের সুনিদিষ্ট নির্দেশনা পাশ কাটিয়ে 'সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত' শর্ত দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি করে একই আদেশে যোগদান গৃহিতপত্র বাতিল করলে মহামান্য হাইকোর্ট বাতিল আদেশটিকেও অবৈধ ঘোষণা করে আদেশটি বিরুদ্ধে স্থগিত আদেশসহ নির্দেশনা জারি করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক স্থগিতকৃত আদেশের বিরুদ্ধে আপিলে গত ৬ জানুয়ারী 'নো অডার' দিয়ে আপিলটি খারিজ করে দেয়।
জানা যায়, হাইকোর্টের আদেশ থাকা সত্ত্বেও বেতন ভাতা না দেওয়ায়, গতবছর ২০ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর ড. শামুল আলম এবং রেজিস্ট্রার আইয়ুব হোসেনের বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে না সে বিষয়ে একটি রুল জারি করেন বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি জাহেদ মনসুরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ।
সর্বশেষ শুনানিতে হাইকোর্টের নির্দেশনা আদেশ অনুযায়ী উপ-রেজিস্ট্রার ড. মো. আবু হানিফা'র বেতন ভাতা প্রদানের বিষয়টি বাস্তবায়ন না করলে হাইকোর্টের আদেশ লঙ্ঘন ও আদালত অবমাননা হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনা অমান্য করায় রেজিস্ট্রার জনাব মো: আয়ুব হোসেনকে আদেশ লঙ্ঘন ও আদালত অবমাননা দায়ে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারী সকালে স্ব-শরীরে কোর্টে হাজির হওয়ার নির্দেশনা জারি করে হাইকোর্ট।
উল্লেখ্য, ৫ আগষ্ট পরবর্তী সময়ে উপাচার্য প্রফেসর ড. শামুল আলম যোগদান করার পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, সংবিধি তুয়াক্কা না করে ইউজিসির নিয়োগ নিষেধ থাকা সত্ত্বেও নিজের মনমত ও মনগড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার জনাব আয়ুব হোসেন, ডিন অলী উল্লাহসহ কয়েকজন উচ্চপদস্থ শিক্ষক ও কর্মকর্তাকে লিয়েন বিনা বেতনে ছুটির মাধ্যমে কোন প্রকার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগ কমিটির সুপারিশ ও সিন্ডিকেটের অনুমোদন ছাড়াই সরাসরি নিয়োগ দেন। যার ফলে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বিশৃংখল পরিস্থিতির সৃস্টির অভিযোগ রয়েছে।