অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম বলেছেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে রাজধানীসহ সারাদেশে ছাত্র জনতার ঐক্যবদ্ধভাবে ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানের সময় ছয়জন সাংবাদিক নিহত হয়। কিন্তু মাঠে ময়দানে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের জন্য ন্যূনতম সুরক্ষা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা হয়নি। সাংবাদিকতার নিরাপত্তা সংকট শুধু সরকারের ব্যর্থতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এই দায় থেকে সংবাদমাধ্যমের মালিকপক্ষ, সম্পাদক পরিষদ ও সাংবাদিকদের পেশাজীবী সংগঠনগুলোও এড়াতে পারে না।’
আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে ডিআরইউর কমিটর কর্মকর্তাদের কাছে ইউনেসকোর গ্লোবাল মিডিয়া ডিফেন্স ফান্ডের (জিএমডিএফ) সহায়তায় ‘সাংবাদিক সহায়তা ডেস্ক হস্তান্তর’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে তিনি আরো বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ও সহিংস পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের মাঠে পাঠানো হলেও বেশির ভাগ গণমাধ্যমই তাদের জন্য হেলমেট, বুলেটপ্রুফ ভেস্ট, গগলস বা টিয়ার গ্যাস প্রতিরোধী কোনো সরঞ্জাম দেওয়া হয় না। অথচ যারা সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন, তারাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
জিএমডিএফের ঢাকা অফিসের প্রতিনিধি লিনা ফক্স বলেন, বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকরা ক্রমবর্ধমান আইনি হয়রানি ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। বিভিন্ন দেশে জার্নালিস্ট সাপোর্ট ডেস্ক কার্যকর মডেল হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ সাংবাদিকদের জন্য সময়োপযোগী আইনি সহায়তা নিশ্চিত করবে।
সমাপনী বক্তব্যে ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংকীর্ণতা পরিহার করে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সাংবাদিকরা ঘরে-বাইরে, অফিসে ও রাস্তায় প্রতিনিয়ত নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সাংবাদিকরা ঠিকমতো বেতন না পেয়ে পরিবার চালাতে গিয়ে চরম দুরবস্থার মুখে পড়ছেন।
ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, বিপদে-আপদে সব সময়ই ডিআরইউ সাংবাদিকদের পাশে থাকে। যখনই কোনো সাংবাদিক মামলা, হামলার শিকার হন তখনই ডিআরইউ তার পক্ষে শক্ত অবস্থান নেন এবং তাদের পক্ষে নানা কর্মসূচি পালন করে। সদস্যদের আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য ডিআরইউ একটি সেলও গঠন করেছে। এই ডেস্কের মাধ্যমে সাংবাদিকদের আইনগত সহায়তাও আরো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দেওয়া সম্ভব হবে।
সাংবাদিক রিয়াজ আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহীদুল ইসলাম, প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেসসচিব ফয়েজ আহমেদ, চর্চা ডটকমের সম্পাদক সোহরাব হাসান, ডিআরইউর সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নাদিয়া শারমিন ও বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ প্রমুখ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিআরইউর কার্যনির্বাহী কমিটির সহসভাপতি মেহ্দী আজাদ মাসুম, যুগ্ম সম্পাদক মো. জাফর ইকবাল, অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জসিম, দপ্তর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, নারীবিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিজান চৌধুরী, তথ্য-প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাহমুদ সোহেল, ক্রীড়া সম্পাদক ওমর ফারুক রুবেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. মনোয়ার হোসেন, আপ্যায়ন সম্পাদক আমিনুল হক ভূঁইয়া ও কল্যাণ সম্পাদক রফিক মৃধা এবং কার্যনির্বাহী সদস্য মো. আকতার হোসেন, আলী আজম, মাহফুজ সাদি, আল-আমিন আজাদ, মোহাম্মদ নঈমুদ্দীন, সুমন চৌধুরী ও মাজাহারুল ইসলাম।
আ. দৈ./কাশেম