বলিউড অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি গত বছরের নভেম্বরে স্বামী পিটার হাগের বিরুদ্ধে পারিবারিক কলহ ও নির্যাতনের অভিযোগে মুম্বাইয়ের অন্ধেরি আদালতে ডিভোর্সের মামলা করেন। মামলায় তিনি ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫০ কোটি টাকা ও অন্যান্য আর্থিক দাবি করেছেন।
সেলিনা অভিযোগ করেছেন, অস্ট্রিয়ান ফ্যামিলি কোর্টের যৌথ হেফাজতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও স্বামী তাদের তিন সন্তানকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে দিচ্ছেন না।
অভিনেত্রী ইনস্টাগ্রামে জানিয়েছেন, গত বছরের সেপ্টেম্বরের ১৫তম বিবাহবার্ষিকীতে স্বামী একটি স্থানীয় পোস্ট অফিসে উপহার দেওয়ার অজুহাত দেখিয়ে তাকে নিয়ে যান এবং সেখানে হঠাৎ তার হাতে ডিভোর্সের নোটিশ ধরিয়ে দেন।
আইনজীবীর বরাতে জানা গেছে, পিটার অস্ট্রিয়ার আদালতে সেলিনার অজান্তে তাদের ভিয়েনার কয়েকটি সম্পত্তি বিক্রি করেছেন এবং দাবি করছেন, সেলিনার ওই সম্পত্তিগুলোর ওপর কোনো অধিকার নেই। স্বামী বিচ্ছেদে সেলিনাকে দায়ী করছেন, যদিও সেলিনা পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে বিচ্ছেদ চেয়েছিলেন।
সেলিনা লিখেছেন, ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর রাত ১টায় প্রতিবেশীদের সহায়তায় তিনি অস্ট্রিয়া ত্যাগ করেন। হাতে অল্প টাকা নিয়ে ভারতে ফিরে নতুন জীবন শুরু করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সন্তানদের মঙ্গলকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ বিচ্ছেদ চেয়েছিলেন, কিন্তু স্বামীর পক্ষ থেকে বিবাহ-পূর্ব সম্পত্তি নিয়ে অযৌক্তিক দাবি আরোপ করা হয়েছে।
গত নভেম্বর মাসে সেলিনা প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা ভরণপোষণ, পিটারের মুম্বাইয়ের বাসভবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং অস্ট্রিয়ায় সন্তানদের হেফাজত চেয়ে আবেদন করেন। পাশাপাশি ৫০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণও দাবি করেছেন।
সেলিনা ও পিটার ২০১০ সালে বিয়ে করেন। ২০১২ সালে তাদের পুত্র সন্তান জন্ম নেয়, এবং পাঁচ বছর পর যমজ সন্তান হয়। তবে হৃদযন্ত্রের জটিলতায় এক সন্তান মারা যায়।