জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট থেকে বের হয়নি ইসলামী আন্দোলন। জোটের সঙ্গে এখনও আসন সমঝোতার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির যুগ্মমহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে অনুষ্ঠিত দলের এক জরুরি বৈঠক শেষে বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম, প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ, যুগ্মমহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, সহকারী মহাসচিব কে এম আতিকুর রহমান, মাওলানা আহমদ আব্দুল কাইয়ুমসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।
আতাউর রহমান বলেন, ‘জুলাই মাসের অভ্যুত্থানের পর দেশ, জাতি ও ইসলামের স্বার্থে পীর সাহেব চরমোনাই ইসলামপন্থিদের জন্য একবক্স নীতি ঘোষণা করেন। ইসলামী আন্দোলন সেই নীতির ভিত্তিতে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের পারস্পরিক আলোচনা এখনো চলমান। ইনশাআল্লাহ শিগগিরই একবক্স নীতির রূপরেখা ও ধরণ পরিষ্কার হবে।’
তিনি লেন, রাজনৈতিক মহল, সাংবাদিক এবং দেশপ্রেমিকরা একবক্স নীতি নিয়ে যে আগ্রহ প্রকাশ করছেন, তা দেশ ও ইসলামের জন্য প্রেরণাদায়ক। আশা করছি জাতির প্রত্যাশা পূরণ হবে।
আতাউর রহমান আরও বলেন, আসন বণ্টন ও একবক্স নীতি সংক্রান্ত আলোচনা জোটের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে চালিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। জোটের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় এবং আশা প্রকাশ করা হয় যে শিগগিরই একবক্স নীতির চূড়ান্ত রূপরেখা প্রকাশিত হবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ইসলামী আন্দোলনের প্রত্যাশা অন্তত ৭০টি আসনে তারা এককভাবে নির্বাচন করবে। তবে জামায়াত তাদেরকে ৪৫টির বেশি আসন ছাড়তে নারাজ। এ কারণে জোটে নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
এদিকে মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় দলীয় বৈঠক করে। বৈঠকে তারা জোটে থাকার বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। দলটি বারবার জানাচ্ছে, অন্তত ২৫টি আসনে ছাড় না পেলে তারা জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ‘রিকশা’ প্রতীকে নিজেদের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাবে। এতে আলোর মুখ দেখবে না ইসলামি দলগুলোর প্রস্তাবিত ‘একবাক্স নীতি’।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১১ দলীয় জোট মোট ৮৪৯টি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে, যা সংসদের ৩০০ আসনের প্রায় তিনগুণ। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী জমা দিয়েছে ২৭৬টি, ইসলামী আন্দোলন ২৬৮টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৯৪টি, খেলাফত মজলিস ৬৮টি, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ৫৩টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৪৪টি, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) ২৪টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ১১টি, নেজামে ইসলাম পার্টি ৬টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ৩টি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ২টি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে।