ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের প্রভাবশালী খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল ও তার স্বজনদের ১২১টি ব্যাংক হিসাবসহ অন্যান্য আর্থিক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত। অভিযুক্ত সালাহউদ্দিন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই এবং তার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত মামলার তদন্ত ও অনুসন্ধান চলছে।
আজ রোববার (৪ জানুয়ারি) পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।
সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী চলমান অনুসন্ধানের স্বার্থে সালাহউদ্দিন এবং তার ভাইবোনদের নামে থাকা ১২১টি ব্যাংক হিসাব, তিনটি মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) হিসাব, তিনটি বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব ও একটি সঞ্চয়পত্র অবরুদ্ধ করার জন্য আদালতের অনুমতি চাওয়া হয়।
এর আগে এ বিষয়ে সিআইডির অ্যাডিশনাল ইন্সপেক্টর জেনারেলের (এআইজি) কার্যালয় থেকে গত ২৮ ডিসেম্বর একটি আনুষ্ঠানিক স্মারকের মাধ্যমে ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক মো. আশরাফুল ইসলামকে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়।
স্মারকে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মানিলন্ডারিং অনুসন্ধানটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে থাকা সন্দেহভাজন হিসাবগুলো অবরুদ্ধ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা জরুরি। সে অনুযায়ী আদালতের আদেশ নিয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম) মুহাম্মদ বাছির উদ্দিন জানান, আদালতের আদেশ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হিসাব অবরুদ্ধ করার কার্যক্রম শুরু করা হবে এবং অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান থাকবে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, সালাহউদ্দিন এবং তার তিন ভাই শেখ সোহেল, শেখ জালাল উদ্দিন রুবেল, শেখ বেলাল উদ্দিন ও বোন তাহমিনা খবির এবং তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক, এমএফএস ও বিও হিসাব আগেও একাধিকবার স্থগিত করা হয়েছিল। সর্বশেষ সপ্তম ও শেষবারের মতো এসব হিসাবের লেনদেন ৩০ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়, যার মেয়াদ ছিল গত ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত।
তদন্তকারী সংস্থার মতে, নির্ধারিত মেয়াদ শেষে পুনরায় এসব হিসাব অবরুদ্ধ করা না হলে অনুসন্ধান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে উল্লিখিত হিসাব ও সঞ্চয়পত্রগুলো আদালতের মাধ্যমে সম্পূর্ণভাবে অবরুদ্ধ করার পাশাপাশি বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
এ বিষয়ে সিআইডির এআইজি বরাবর আবেদন পাঠানো হলে তিনি আদালতের মাধ্যমে উল্লিখিত হিসাব ও সঞ্চয়পত্র অবরুদ্ধ করার অনুমতির বিষয়ে সম্মতি দেন। তদন্ত নথিতে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে পরিচালিত ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত বিবরণ সংযুক্ত করা হয়েছে। যা যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আ. দৈ./কাশেম