বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের পতাকা এখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে। আগামীতে তারেক রহমান জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশের স্বাধীনতা রক্ষা, জনগণকে সুরক্ষা এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করবেন বলে মানুষের প্রত্যাশা।
আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে ছারছীনা দরবার শরিফের পীর মুফতি শাহ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমাদ হুসাইন বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জমিয়াতে হিযবুল্লাহর নায়েবে আমির মীর্জা নুরুর রহমান বেগ, নাযেমে আলা ড. সৈয়দ শারাফত আলী, মজলিসে আমেলা সদস্য মির্জা শোয়েবুর রহমান বেগ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা হেমায়েত বিন তৈয়ব প্রমুখ।
প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন রেখে গেছেন, সেই পতাকা খালেদা জিয়া বহন করেছেন।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের মধ্য দিয়ে যে গণমানুষের ভালোবাসা ও আবেগের বর্হিপ্রকাশ ঘটেছে, তা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে আরও শক্তিশালী করবে। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের পতাকা এখন তারেক রহমানের হাতে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, নীতির প্রশ্নে, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে খালেদা জিয়া কখনো আপস করেননি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন, লড়াই করেছেন এবং বারবার কারাবরণ করেছেন। জীবনের শেষ সময়ে গুরুতর অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও তিনি কখনো দেশ ছেড়ে যাননি। দেশের মাটি, মানুষ ও সার্বভৌমত্বের প্রতি তার গভীর ভালোবাসাই সাধারণ মানুষকে আবেগাপ্লুত করেছে।
তিনি বলেন, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে যখন খালেদা জিয়ার অভিভাবকত্ব সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, ঠিক সে সময় তার প্রয়াণে মানুষ গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছে। এ কারণেই বিপুল সংখ্যক মানুষ দেশনেত্রীর জানাজায় অংশ নিয়েছেন, তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং চোখের পানি ফেলেছেন।
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, খালেদা জিয়ার চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের জনগণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে কর্তব্য রয়েছে, তা তারা পালন করবেন। একই সঙ্গে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করার মাধ্যমে দেশের পক্ষে যে শক্তি রয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে বিজয়ী করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, নিঃসন্দেহে খালেদা জিয়া একটি শক্ত অবস্থান রেখে গেছেন। তার পুত্র ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের যেমন দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীরও দায়িত্ব রয়েছে।
খালেদা জিয়ার কুলখানি প্রসঙ্গে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে পরে আলোচনা করে সাংবাদিকদের জানানো হবে।
আ. দৈ./কাশেম