স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে নামার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিপাকে পড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে সদ্য পদত্যাগ করা নেত্রী তাসনিম জারা। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম মানতে গিয়ে প্রযুক্তিগত জটিলতায় কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে তার ভোটার তথ্য পাওয়ার সব পথ।
দেশের নির্বাচনি আইন অনুযায়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হলে প্রার্থীকে অবশ্যই ২৫ বছর বয়সি বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে এবং ভোটার তালিকাভুক্ত থাকতে হবে। পাশাপাশি নির্বাচনি এলাকার মোট ভোটারের অন্তত ১ শতাংশের সমর্থন, ভোটারদের স্বাক্ষর ও সিরিয়াল নম্বরসহ জমা দিতে হয়।
এই শর্ত পূরণে গতকাল (২৮ ডিসেম্বর) থেকে ঢাকা-৯ আসনের খিলগাঁও এলাকায় ভোটারদের কাছ থেকে স্বাক্ষর সংগ্রহ শুরু করেন তাসনিম জারা। সেখানেই দেখা দেয় বড় সমস্যা। কারণ স্বাক্ষরের সঙ্গে প্রয়োজনীয় ভোটার সিরিয়াল নম্বর কোনোভাবেই পাওয়া যাচ্ছে না।
তাসনিম জারার অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত পাঁচটি উপায়— এসএমএস, অনলাইন সার্ভিস, কল সেন্টার, কিউআর কোড কিংবা অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমের একটিও কার্যকর নেই। ওয়েবসাইটের সার্ভার ডাউন থাকায় ভোটার নম্বর সংগ্রহ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
তার ভাষায়, ভোটার নম্বর ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া সম্ভব নয়। অথচ নম্বর পাওয়ার প্রতিটি পথ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এটা যেন পরিকল্পিতভাবেই করা হয়েছে।
তাসনিম জারার জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো ‘সময়’। কারণ আজ সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। এই অল্প সময়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোটার সিরিয়াল নম্বর সংগ্রহ করা যাবে কি না তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।
তাসনিম জারার এমন ঘটনায় পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, নিয়মের বেড়াজাল আর প্রযুক্তিগত অচলাবস্থার কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সাংবিধানিক অধিকারই প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন দেখার বিষয়, শেষ মুহূর্তে কোনো সমাধান আসে কি না, নাকি নির্বাচন শুরুর আগেই থেমে যায় তাসনিম জারার লড়াই!