বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রথমবারের মতো আজ রোববার গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে নিজে অফিস করছেন। ওয়ান ইলেভেনে সেনা সমর্থিত সরকারের হাতে গ্রেপ্তার সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জামিনে মুক্ত হওয়ার পর ২০০৮ সালে এই ভবনটি বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, এই অফিস যখন ভাড়া নেওয়া হয়; তখন তারেক রহমান উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে ছিলেন। ১৭ বছর পর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) স্বদেশে ফেরেন। এর আগে তার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্য একটি অফিস প্রস্তুত করা হয়।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নিয়ে তিনি সেই কক্ষে বসেন।দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে গুলশান কার্যালয়ে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তারেক রহমানের গুলশান কার্যালয়ে আসবেন-এই খবরে দলীয় নেতাকর্মীসহ গণমাধ্যমকর্মীরাও ভিড় করেন কার্যালয়ে এবং কার্যালয়ের সামনে।
কার্যালয়ে ছিলেন বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ আলমগীর পাভেল, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, চেয়ারপারসনের কারযালয়ের কর্মকর্তারাসহ বগুড়ার জেলার নেতারা। এ ছাড়াও খালেদা জিয়া-তারেক রহমানের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার (অব.) শামছুল ইসলাম, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ইউরোপ’র সমন্বয়ক কামাল উদ্দিন, তারেক রহমানের একান্ত সচিব আবদুর রহমান সানী প্রমুখ।
এদিন দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের গাড়ি গুলশানে চেয়ারপারসনের কারযালয়ে প্রবেশ করে। তিনি গুলশান এভিনিউ‘র বাসা থেকে এই অফিসে আসেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শুভেচ্ছা বিনিময়পর্ব শেষ করে দোতলায় নিজের চেম্বারে গিয়ে বসেন।
নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কারযালয়েরও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের জন্য আলাদা চেম্বার করা হয়েছে। দোতলায় চেয়ারপারসনের চেম্বার পাশেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের চেম্বার তৈরি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে ১৭ বছর পর দেশে ফিরেন তারেক রহমান। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য সুপ্রিম কোর্টের জামিন নিয়ে স্বপরিবারে লন্ডন যান। সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশে ফিরতে পারেননি তিনি এবং তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান।