ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ সম্পন্ন করতে যাচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর ঢাকা-১৭ আসনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের (গুলশান এলাকা) ভোটার হওয়ার জন্য তিনি ইতোমধ্যে অনলাইনে আবেদন করেছেন।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুর ১টার দিকে তারেক রহমান আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে উপস্থিত হয়ে ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ, চোখের মণির (আইরিশ) প্রতিচ্ছবি ও অন্যান্য বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান করেন। এর মাধ্যমে ভোটার হওয়ার বাকি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন তিনি। এদিন তার সঙ্গে থাকা কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাওয়ার জন্য আবেদন করেন।
এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীর জানান, বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ শেষে তারেক রহমানের এনআইডি পেতে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।
তারেক রহমানের জন্মস্থান বগুড়া হলেও ভোটার হওয়া নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’-এর ঠিকানায় ভোটার হওয়ার আবেদন করেন।
এর আগে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, ভোটার তালিকা আইন অনুযায়ী ভোটগ্রহণের আগের দিন পর্যন্ত যেকোনো যোগ্য ব্যক্তিকে ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার এখতিয়ার কমিশনের রয়েছে। অতীতেও বিশেষ ব্যবস্থায় ভোটার হওয়ার নজির রয়েছে। ২০০১ সালে শেখ রেহানা এবং সাম্প্রতিক সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা খলিলুর রহমান ও নির্বাচন কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার এ ধরনের বিশেষ ব্যবস্থায় ভোটার হয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সাল থেকে দীর্ঘ সময় প্রবাসে অবস্থানের কারণে তারেক রহমানের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল না। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে হলে ভোটার হওয়া বাধ্যতামূলক। যদিও পৈতৃক আসন বগুড়া-৬ থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি ছিল, কৌশলগত কারণে তিনি ঢাকার অভিজাত এই আসনের ভোটার হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এর আগে শনিবার সকালে তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহিদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেন। পরে তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরেও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খানসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচন কমিশন ভবন থেকে বের হয়ে তিনি বনানী কবরস্থানে ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত করেন। এরপর গুলশানে নিজ বাসভবনে ফিরে যান।
এর আগে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টায় তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও তার বাবা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করেন। দীর্ঘ ১৯ বছর পর বাবার কবরের পাশে দাঁড়ান তারেক রহমান। পরে তিনি সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৭ বছর পর বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে লন্ডন থেকে সিলেট হয়ে ঢাকায় ফেরেন তারেক রহমান। তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও একমাত্র কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। ঢাকায় পৌঁছালে বিমানবন্দরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তাকে স্বাগত জানান। পরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও প্রটোকলের মধ্যে বুলেটপ্রুফ বাসে করে তিনি পূর্বাচল ৩০০ ফিট এলাকার মঞ্চে যান। এ সময় রাস্তার দুই পাশে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামে।