বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে স্বাগম জানাতে ঢাকায় ৫০ লাখ মানুষের সমাগমের আশাবাদী দলটির কেন্দ্রিয় নেতারা। কারণ টানা প্রায় ১৮ বছর পর লন্ডন থেকে সরাসরি ঢাকায় আসছেন তিনি। এতোদিন লন্ডন থেকে ভিডিও’র মাধ্যমে বড় পর্দায় দলীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিয়েছেন। এবার আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সরাসরি মহাসমাবেশের মঞ্চ থেকে দলীয় নেতা-কর্মী এবং দেশবাসীর উদ্দেশ্য করে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান।
ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক লাখ মানুষ ঢাকায় ঢুকে পড়েছেন। ফলে নগরীর বেশির ভাগ আবাসিক হোটেল, মোটেল ও গেস্ট হাউজে কক্ষ বুকিং শেষ হয়ে গেছে। এখন কোথায়ও সিট খালি নেই।
আজ বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) পুরো রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক হোটেলগুলোতে ইতোমধ্যে সব সিট বুকিং হয়ে গেছে। এখন কোনো হোটেলেই আর সিট খালি নেই। হোটেলে জায়গা না পেয়ে এখন অনেকেই ঢাকায় বাস করা স্বজন ও আশপাশের মেসে থাকা শিক্ষার্থীদের কাছে জায়গা খুঁজে নিচ্ছেন।
সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফুট এলাকায় গণসংবর্ধনাকে কেন্দ্র করে মহাখালী, গুলশান, বনানী ও উত্তরার হোটেলগুলোতে মানুষের চাপ বেশি বেড়েছে। এছাড়া বিএনপির পার্টি অফিস এলাকা কেন্দ্র করে কাকরাইল, পল্টন, আরামবাগ ও বিজয়নগর এলাকায় প্রচুর মানুষ হোটেলে অবস্থান করছে। ভালো মানের হোটেলগুলোর চেয়ে এখন মাঝারি মানের হোটেলে মানুষের চাপ বেশি। আবার সিট সংকটকে পুঁজি করে অনেক হোটেলে ভাড়া চাওয়া হচ্ছে বেশি।
উত্তরা এলাকার গ্র্যান্ড প্লাজা হোটেলের ম্যানেজার হাবিবুর রহমান হাবিব গণমাধ্যমকে বলেন, তারেক রহমান দেশে ফেরার পর তাকে সংবর্ধনা দিতে অনেকে ঢাকায় এসেছে। এখন আমাদের সব রুম ফুল। আমরা কোনো বাড়তি গেস্ট নিতে পারছি না। বনানী থেকে চেয়ারম্যানবাড়ি পর্যন্ত বেশ কিছু হোটেলেও দেখা গেল সিট সংকট। বনানী ইন গেস্ট হাউসের ম্যানেজার বকুল হোসেন বলেন, অনেক মানুষ গ্রাম-গঞ্জ থেকে এসে সিট চাচ্ছে। কিন্তু আমরা নিয়মিত গেস্টদেরই সিট দিতে পারছি না।
পল্টনের এশিয়া হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টসে রুম রয়েছে ৫৪টি। সেখানে গিয়ে কথা হয় ফ্রন্ট ডেস্ক অফিসার জমশেদ হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, সন্ধ্যার মধ্যে এগুলো বুকিং হয়ে গেছে। ফকিরাপুল মোড়ে পাশাপাশি দুটি হোটেল মুন ষ্টার হোটেল ও ফাইভ ষ্টার। দুটি হোটেলেরই রিসিপশনে গিয়ে দেখা গেলো সিট খালি নেই। কর্তব্যরত ম্যানেজার বলছেন, তাদের হাউস ফুল দুদিন ধরেই। শুধু ফকিরাপুল ও আরামবাগ এলাকায় প্রায় ২০০ হোটেল রয়েছে। যেগুলোর অধিকাংশের এ অবস্থা বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
এদিকে ফকিরাপুল মোড়ে কথা হয় জয়পুরহাট থেকে আসা আব্দুল মাজেদ নামের এক বিএনপি কর্মীর সঙ্গে। তিনি বলেন, সকালে কমলাপুরে এসে নেমে কয়েকটি হোটেল খুঁজে রুম পেয়েছি। সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন রুম না পেয়ে আত্মীয়দের বাসায় গেছেন। ফকিরাপুলে কথা হলে মিনহাজুল নামের একজন অভিযোগ করেন, মানুষের চাপে এ এলাকার হোটেলগুলো ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে।
ঢাকা শহরে কতগুলো হোটেল মোটেল ও গেস্ট হাউজ রয়েছে এর কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই। তবে এ সংখ্যা ৩ থেকে ৪ হাজার হতে পারে বলে ধারণা বাংলাদেশ হোটেল ও গেস্ট হাউজ ওনার অ্যাসোসিয়েশনের। আর এগুলোতে ৪ থেকে ৫ লাখ মানুষের ধারণক্ষমতা রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
বাংলাদেশ হোটেল ও গেস্ট হাউজ ওনার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব জেমস বাবু হাজরা গণমাধ্যমকে বলেন, প্রতিনিয়ত ঢাকায় নতুন নতুন হোটেল, রিসোর্ট ও গেস্ট হাউজ হচ্ছে, বন্ধও হচ্ছে। আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে সারাদেশে থাকার উপযোগী হোটেল ও গেস্ট হাউজের সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি হবে। এরমধ্যে অর্ধেক ঢাকা ও চট্টগ্রামে বলে ধারণা করা হয়। জেমস বাবু হাজরা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হোটেল ব্যবসা মন্দা ছিল। তারেক রহমানের ফেরা ও তার সংবর্ধনাকে কেন্দ্র করে এলাকাভিত্তিক অনেক হোটেল জমে উঠেছে।
আ. দৈ. /কাশেম