বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬,
১৫ মাঘ ১৪৩২
ই-পেপার

বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
অর্থ-বাণিজ্য
বাজার থেকে লোপাট হাজার কোটি টাকা
আইপি সিন্ডিকেটের কবলে বাণিজ্য মন্ত্রনালয়,আমদানির পরও পেঁয়াজের দাম কমছে না
নিজস্ব প্রতিবেদক :
Publish: Saturday, 20 December, 2025, 9:05 PM  (ভিজিট : 67)

পেঁয়াজের বাজার সহনীয় রাখতে সীমিত আকারে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয়া হয় গত ৭ ডিসেম্বর। নিয়ম অনুযায়ি আমদানিতে সব ব্যবসায়িদের জন্য আইপি (ইমপোর্ট পারমিশন) উন্মুক্ত করার কথা থাকলেও মুষ্টিমেয়ও কিছু ব্যবসায়ীদের কেবল এই সুযযোগ দেয়া হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রনালয়ের এই সিন্ডিকেটের কারণে ব্যবসায়ীরা সমান সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

 ফলে সিন্ডিকেট করে আমদানির কারণে বাজারের এখনো কমেনি পেয়াজের দাম। পেয়াজের দাম বাড়ার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই ভোক্তাদের নাভিশ্বাস উঠেছে। অপর দিকে সিসিন্ডকে করে পেয়াজ আমদানি করে বাজার থেকে হাজার কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ে বিজ্ঞপ্তিতে ৭ ডিসেম্বও থেকে সীমীত আকারের আমদানির অনুমতি দেয়া হয়। এতে বলা হয় প্রতিদিন ৫০টি করে আইপি (আমদানি অনুমতি) ইস্যু করা হবে। প্রতিটি আইপিতে সর্বোচ্চ ৩০ টন পেঁয়াজ আনার অনুমতি দেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত ১ আগস্ট থেকে যেসব আমদানিকারক আমদানি অনুমতির জন্য আবেদন করেছেন, তাঁরাই কেবল আবার আবেদন দাখিল করতে পারবেন। একজন আমদানিকারক একবারের জন্য আবেদনের সুযোগ পাবেন। পেঁয়াজের বাজার সহনীয় রাখতে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। 

কিন্তু ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন আইপি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকার কথা। কিন্তু টাকা লুটপাট করতেই বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের সিন্ডিকেট সবার ক্ষেত্রে এই সুযোগ দেয়নি। ফলে সিন্ডিকেটের সাথে সংশ্লিষ্টরা ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ আমদানির সুযোগে হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছে বলে তারা অভিযোগ করেন। তারা জানান এভাবে আইপি বন্ধ রেখে পেঁয়াজ আমদানি করতে না দেয়ায় বাজারের পেঁয়াজের দাম কমছে না। এভাবে আইপি বন্ধ করার নজির গত ২৫ বছরের দেখা যায়নি। পাইকারি বিক্রেতাদেরও অভিযোগ, সরকার পেঁয়াজ আমদানি উন্মুক্ত করেনি। দেখেশুনে কিছু ব্যবসায়ীকে আমদানির জন্য আইপি দেওয়া হয়েছে। এতে বাজারে চাহিদা অনুপাতে পেঁয়াজ না আসায় দাম কমছে না।

রাজধানীতে ডিসেম্বরের শুরু থেকে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ১৫০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। নতুন আগাম পেঁয়াজ বাজারে আসলেও দাম কমেনি মুলত আইপি সিন্ডিকেটের কারণে। ক্রেতারা জানিয়েছেন বাজার ভর্তি পেয়াজের যোগান থাকলে দাম চড়া।  চড়া দামে পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে। এর আগে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছিলেন, বাজারে দাম না কমলে পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে দাম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলে আর অনুমতি দেয়া হবে না। শেষ পর্যন্ত দাম কমাতে অনুমোদন দেয়া হলে আইপি সিন্ডিকেটের কারণে বাজার থেকে হাজার কোটি টাকা লোপাট করলেও সাধারণ ক্রেতাদেও কোন লাভ হয়নি। 

জানান পেয়াজের বাজার শত টাকা ক্রস করার পরে আইপি (ইমপোর্ট পারমিশন) দেয়া শুরু করে কৃষি মন্ত্রনালয়। কিস্তু ৩দিনের মধ্য তা বন্ধ করে দেয় বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের চাপে। বাজারে প্রচলিত আছে ৪০০০ কোটি টাকা জনগনের পকেট কাটার সুযোগ করে দিতেই আইপি বন্ধ করা হয়েছে। হাইকোর্টে রীট করেও প্রতিকার পায় নি ব্যবসায়ীরা। কৃষি মন্ত্রনালয় ছিলো অসহায়, বহুনাটকীয়তার পরে চলতি ডিসেম্বরের  ০৭ তারিখ থেকে আইপি ইস্যু করার সিদ্ধান্ত দেয় কৃষি মন্ত্রনালয়। প্রথম ০৫ দিন দৈনিক ৫০ টি করে আবেদন আইপি দেয়ার সিদ্ধান্ত দেয় মন্ত্রনালয়। সব ব্যবসায়ীকে আইপি অনুমোদন না দেয়ায় পেয়াজের দাম এখনো বাড়তি।

বাজারের খোজ নিয়ে জানা গেছে দেড় মাস আগে দেশি পুরানো পেঁয়াজের দাম ৭০-৮০ টাকা থেকে বেড়ে ১২০ টাকায় স্থির হয়। এই দামে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে এক মাসেরও বেশি সময়। তবে হঠাৎ করে ডিসেম্বর মাসের শুরুর দিকে পেঁয়াজের দাম আরও ৩০-৪০ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকা পর্যন্ত উঠে যায়। এরপর সরকার বাধ্য হয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে অল্প পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন দেয়। সরকার ও সাধারণ মানুষের ধারণা ছিল ভারতের পেঁয়াজ আসলে সিন্ডিকেট ভেঙে দেশি পেঁয়াজেরও দাম কমে আসবে। তবে, দেশে প্রতিদিন আমদানির পেঁয়াজ আসলেও গত ৩-৪ দিনে পেঁয়াজের দামে লাগাম পড়েনি। এখনো রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা দরে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দেশে এখনো গত অর্থবছরের উৎপাদাতি পেঁয়াজের প্রায় ১ লাখ টন মজুদ রয়েছে। নতুন পেঁয়াজও বাজারে আসতে শুরু করেছে। এমন পরিস্থিতিতে অধিক পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন দেওয়া হলে দেশের কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই, সরকার প্রতিদিন অল্প পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন দিয়েছে।

জবাজার ঘুরে দেখা গেছে দেশি পুরানো পেঁয়াজ প্রতিকেজি ১৪০ টাকা থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে, তুলনামূলক ও শিকর গজানো দেশি পুরানো পেঁয়াজ কোথাও কোথাও ৯০ টাকা থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। আর ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৩০ টাকা দরে। তবে, ভারতীয় পেঁয়াজ বাজারে দুই-একটা দোকান ছাড়া তেমন দেখা যায়নি।

মুগদা বাজারের খুচরা বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, বাজারে পেঁয়াজের যথেষ্ট সরবরাহ না থাকায় আমরা বেশি দামে কিনে আনছি। তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। বড় আড়তদাররা ঠিক করেন কোন দিন কত টাকায় বিক্রি করবে। আমরা তো আনি আর বিক্রি করি। কম দামে আনতে পারলে কমে বিক্রি করি, আর বেশি দামে আনলে বেশি দামে বিক্রি করি। পাইকারি বিক্রেতাদের অভিযোগ, সরকার পেঁয়াজ আমদানি উন্মুক্ত করেনি। দেখেশুনে কিছু ব্যবসায়ীকে আমদানির জন্য আইপি দেয়া হয়েছে। এতে বাজারে চাহিদা অনুপাতে পেঁয়াজ না আসায় দাম কমছে না।

কাওরান বাজার আড়তে দেখা গেছে, প্রতি পাঁচ কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা। এ হিসাবে প্রতি কেজির দাম ১২০ টাকা। আর আর ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা দরে। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী আকমল সরকার বলেন, ‘ইন্ডিয়ান পেঁয়াজের সাপ্লাই কম। ইন্ডিয়ার পেঁয়াজ বেশি না আসায় দেশি ও ইন্ডিয়ান কোনোটারই দাম কমাইতে পারছে না আড়তদাররা। শুধু ঢাকার বাজারেই নয়, চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জেও পেঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারেও দেশি পেঁয়াজ কেজি ১২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। আর ভারতীয় পেঁয়াজ ৯০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

আ. দৈ./কাশেম




আপনার মতামত লিখুন:

সর্বশেষ সংবাদ

ঋণ খেলাপিদের জন্য লাল কার্ডের হুঁশিয়ারি, বিদেশি নাগরিকরাও ছাড় পাবেন না: আসিফ মাহমুদ
ভোটকালীন ৩ দিনের জন্য মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ২৪ ঘন্টার মধ্যে লুণ্ঠিত গরু ও নগদ দেড় লাখ টাকাসহ ৩ জন গ্রেপ্তার
বিশ্বকাপ আয়োজন পরিবর্তনের ইঙ্গিত, স্থান হতে পারে আরব আমিরাত
পিপলস ব্যাংকের চেয়ারম্যান সস্ত্রীক দেশত্যাগে বাধা,৩৪টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ
আরো খবর ⇒

জনপ্রিয় সংবাদ

লোপাটের জন্যই ঢাকা দক্ষিণের দ্বিগুন ঢাকা উত্তরের বাজেট করেন প্রশাসক এজাজের
বিভাগীয় সভাপতির অনুপস্থিতিতে ইবির নিয়োগ বোর্ড স্থগিত, ওই শিক্ষকের পদত্যাগের দাবি শিক্ষার্থীদের
যাকে ভোট দেবেন, বুঝে-শুনেই দেবেন: নাহিদ ইসলাম
চলমান আলোচনার ফাঁকে সৌদিতে খেলতে নামলেন সাকিব
দেশে নির্বাচনের গণজোয়ার বইছে, ভোটার ও জনগনের নিরাপত্তার আহ্বান-আমান উল্লাহ আমানের
অর্থ-বাণিজ্য- এর আরো খবর
close
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ
নির্বাহী সম্পাদক : তৌহিদুর রহমান

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১১/১/বি উত্তর কমলাপুর, মতিঝিল থেকে প্রকাশিত
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০১৭১২-৫০১২৩৬, ০২-৫৮৩১৬১০৯ , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com
About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৪ আজকের দৈনিক
🔝