জুলাইয়ে রক্ত দিয়ে জীবন দিয়ে স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করেছিলাম, শকুনেরা আবারও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে খামচে ধরার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ইনকিলাব মঞ্চের সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশে এ মন্তব্য করেন তিনি।
সারজিস বলেন, ৫৪ বছরেও শকুনদের হাত থেকে মুক্তির জন্য আন্দোলন করতে হচ্ছে। আবারও শকুনেরা বাংলাদেশের মানচিত্রে থাবা বসানোর চেষ্টা করছে। আগামীর বাংলাদেশে কেউ যদি ওসমান হাদিদের হামলা করতে চায়, তাহলে বিদ্রোহের আগুন সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে।
খুনি হাসিনা ও হাদির হামলাকারীদের ভারতে আশ্রয় দিয়ে এ দেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চাইলে তা হবে না উল্লেখ করে সারজিস বলেন, বাংলাদেশে থাকা ভারতীয় হাইকমিশন যদি এ দেশের মানুষের চাওয়া-পাওয়াকে ভারতের কাছে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে এই মানুষগুলোর এ দেশে থাকার কোনো অধিকার নেই।
সারজিস আলম আরও বলেন, আবু সাঈদের বুকে গুলি চালিয়ে দমানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে তা পারেনি। তেমনিভাবে হাদির ওপর হামলা করে আমাদের স্পিরিটকে দমানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এ দেশের লাখো হাদি বেঁচে থাকতে তা হতে দেয়া হবে না।
প্রতিরোধ সমাবেশে বক্তারা বলেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে জিজ্ঞেস করতে চাই বারবার হাদির জীবন শঙ্কা দেখা দেয়ার পরও আপনারা কী ব্যবস্থা নিয়েছেন। এই উপদেষ্টাকে নিয়ে নির্বাচন পর্যন্ত যাওয়া যাবে না। আমরা সবাই তার পদত্যাগ করতে করতে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে পদত্যাগ করতে হবে। বক্তারা আরও বলেন, হাদি আমাদের সবার মধ্যে রয়েছে। হাদির ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। এ দেশে থেকে আওয়ামী লীগের দালালদের বিতারিত করতে হবে।
এর আগে, সোমবার বিকাল ৩টায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এই সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। সমাবেশস্থলে উপস্থিত নেতাকর্মীরা একের পর এক প্রতিবাদী স্লোগান দিতে থাকেন। স্লোগানে স্লোগানে তারা বলেন, ‘আমরা সবাই হাদি হবো, ভুলের মুখে কথা বলব’ এবং ‘নারায়ে তাকবির—আল্লাহু আকবর’। ‘এক হাদি রক্ত দেবে, লক্ষ হাদি জন্ম নেবে’। পাশাপাশি শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনার ন্যায়বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগানে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং হামলাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবি তোলেন।