আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বানচালের চেষ্টা চালাচ্ছে একটি গোষ্ঠী। ইনকিলাব মঞ্চের আহবায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে ওই গোষ্ঠীর কিলাররা। তাছাড়া নির্বাচন অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটছে। তবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিতে প্রস্তুতি নিয়েছে। ইতিমধ্যে নির্বাচনে প্রার্থীদের অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। পাশাপশি সামরিক ও বেসামরিক বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। সতর্কাবস্থায় রয়েছে দেশের সকল গোয়েন্দা সংস্থা।
এদিকে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদির ওপর হামলাকে ‘ষড়যন্ত্রের’ অংশ হিসেবে তুলে ধরে তিন রাজনৈতিক দলের নেতারা বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানকে নস্যাৎ করার সকল প্রচেষ্টা রুখে দিতে দলগুলো ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে রয়েছে। গত শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে এক বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর নেতারা এই অবস্থান ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে পুলিশের পক্ষ থেকে সব রাজনৈতিক দলের জন্য নিরাপত্তা প্রটোকল সরবরাহ করা হবে। এই প্রটোকলে রাজনৈতিক নেতা এবং আসন্ন নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের বাসস্থান, কার্যালয়, চলাচল, জনসভা ও সাইবার স্পেসে কীভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন—সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হবে।
এছাড়া গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির নেতৃত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতাদের বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গতকাল রোববার প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য জানান। তিনি জানান, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় হামলাকারী ও তার সহযোগীদের পুলিশ ইতোমধ্যে শনাক্ত করেছে। তাদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিবিড় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রধান সন্দেহভাজন ব্যক্তি যাতে কোনোভাবেই সীমান্ত অতিক্রম করতে না পারে, সে জন্য শুক্রবার রাতেই সবগুলো ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে সন্দেহভাজনদের ছবি ও অন্যান্য তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং র্যাবের টহল জোরদার করা হয়েছে।
নির্বাচন কার্যালয়ে আগুন : লক্ষ্মীপুরে জেলা নির্বাচন অফিসে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আগুনে অফিসের নিচতলার গোডাউনে সংরক্ষিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়ে গেছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মারুফ হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করেন। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। জেলা নির্বাচন অফিসার মো. আবদুর রশিদ বলেন, আগুনে অফিসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়ে গেছে। তবে দ্রুত আগুন শনাক্ত হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রার্তীদের অস্ত্রের লাইসেন্স : অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের প্রার্থীরা ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স চাইলে অনুমতি দেয়া হবে। যারা অস্ত্র জমা দিয়েছেন তাদের অস্ত্রও ফেরত দেয়া হবে। ওসমান হাদিকে হামলার ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তাতারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, জড়িতদের কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হবে না। হাদির ওপর হামলা আসন্ন নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার অপপ্রয়াস। এ ধরনের চেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারীর যোদ্ধাদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই বলেও জানান জাহাঙ্গীর আলম।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে পুলিশের পক্ষ থেকে সব রাজনৈতিক দলের জন্য নিরাপত্তা প্রটোকল সরবরাহ করা হবে। গতকাল রোববার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, এই প্রটোকলে রাজনৈতিক নেতা এবং আসন্ন নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের বাসস্থান, কার্যালয়, চলাচল, জনসভা ও সাইবার স্পেসে কীভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন—সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হবে। এছাড়া, গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারীর নেতৃত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতাদের বাড়তি নিরাপত্তা প্রদান করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
টার্গেট কিলিং : জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, টার্গেট কিলিংয়ের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকে নস্যাৎ করার অপচেষ্টা চলছে। গতকাল রোববার সকালে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে মিরপুর বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ বলেন, ওসমান হাদীকে হত্যাচেষ্টার ঘটনার দ্রুত বিচার প্রয়োজন। নির্বাচন ও গণঅভ্যুত্থানকে ব্যর্থ করার লক্ষ্যে টার্গেট কিলিং হচ্ছে। যারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত, তারা প্রশাসন এবং সরকারের বিভিন্ন স্তরের সঙ্গে যুক্ত তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা উচিত।
আ. দৈ./কাশেম/ ইমু