ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) বলেছেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জীবন উৎসর্গকারী মানুষের রক্তকে সার্থক করতে হবে। ৫৪ বছর পর ইসলামকে রাষ্ট্র পরিচালনায় নেওয়ার যে সুযোগ এসেছে, তা কাজে লাগাতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ধিক্কার দেবে।’
ঐতিহাসিক চরমোনাই মাহফিলের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) রেজাউল করীম এসব বলেন।চরমোনাই পীর বলেন, তিনি কোথাও নির্বাচনে প্রার্থী হননি; ফলে মন্ত্রী হওয়ার সুযোগও নেই। তবুও তার সব প্রচেষ্টার লক্ষ্য দেশকে উত্তরণের পথে নেওয়া। সমাবেশে তিনি বলেন, অতীতে যারা দেশের দায়িত্ব পেয়ে দুর্নীতিতে দেশকে পিছিয়ে দিয়েছে, তারা আবারো ক্ষমতায় ফেরার চেষ্টা করছে। জনগণ ‘নতুন শাড়িতে পুরোনো বউ’ দেখতে চায় না। তাই আগামী নির্বাচনে পরিবর্তন অনিবার্য।
সমাবেশে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আফম খালেদ হোসাইন বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, চরমোনাই পীর সাহেবের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং ইসলামী আন্দোলনের সক্রিয় ভূমিকার কারণেই তার উপদেষ্টা পরিষদে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। প্রত্যাশা বেশি হলেও তাকে সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করতে হয়। তিনি বলেন, ধর্মের ব্যাখ্যায় উলামাদের কথাই শেষ কথা, এবং দেশে কেউ ইসলাম অবমাননা করলে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে আইন হাতে না নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
সমাবেশে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহমেদ বলেন, আল্লাহর বাণী অনুযায়ী কোনো জালেমের দিকে ঝুঁকে যাওয়া যাবে না। আগামী নির্বাচনে ভয় বা প্রলোভনের কারণে কারও প্রতি অবিচারমূলক সুযোগ তৈরি করা উচিত হবে না।
দলের যুগ্মমহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানকে অস্বীকার করাদের প্রতি সরকারের অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার কারণে নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়নি। অস্ত্র উদ্ধার হয়নি, নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ। এমন বাস্তবতায় তারা নির্বাচনে শঙ্কিত। তিনি সতর্ক করে বলেন, অতীতের মতো নির্বাচন হলে দেশে পুনরায় বিপ্লব বা অভ্যুত্থান ঘটতে পারে।
গাজী আতাউর রহমান বলেন, সিইসি স্বীকার করেছেন যে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একইসঙ্গে আয়োজন চ্যালেঞ্জিং। এটাই তারা বারবার বলে আসছেন। একই দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত ভুল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে বলা হয়, জুলাই সনদে সাক্ষর করার পরও বিএনপি ‘না ভোট’ প্রচার করছে। তারা জয়ী না হলে পুরোনো বন্দোবস্তের রাজনীতি ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে। এত রক্ত ও ত্যাগের পর দেশকে পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরতে দেওয়া যাবে না।
অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, মাওলানা ইমতেয়াজ আলম, মাওলানা আহমদ আব্দুল কাইয়ুম, কেএম আতিকুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। সমাবেশে জাতীয় উলামা-মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের নতুন সভাপতি হিসেবে দেশের শীর্ষ আলেম মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদের নাম ঘোষণা করা হয়।