আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সারাদেশ রেড, ইয়েলো ও গ্রিন—এই তিন জোনে ভাগ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, প্রতিটি জোনের ঝুঁকি বিবেচনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করবে নির্বাচন কমিশন।
রোববার (২৩ নভেম্বর) নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বাংলাদেশ সফররত কমনওয়েলথ মহাসচিব শার্লি আয়োরকর বচওয়ের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ইসি সচিব।
ইসি সচিব জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে কমনওয়েলথ সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে আগ্রহী। ৫৬ সদস্য রাষ্ট্রের সংগঠন হিসেবে তারা পর্যবেক্ষক পাঠানোর জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি জানান, সিইসির সঙ্গে বৈঠকে কমনওয়েলথ মহাসচিবের কাছে কমিশনের নির্বাচন প্রস্তুতি, অগ্রগতি, বিদেশে ভোট প্রদান, গণভোটসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বিদেশি পর্যবেক্ষকদের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনাও হয়েছে। ইসি জানিয়েছে, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের তারা স্বাগত জানাবে। তবে এখনো কতজন পর্যবেক্ষক আসবেন বা কখন আসবেন তা নির্ধারিত হয়নি। প্রবাসী পর্যবেক্ষকরাও তাদের নিজস্ব মূল্যায়ন তুলে ধরবেন।
আখতার আহমেদ বলেন, “কমনওয়েলথ জিজ্ঞেস করেছে—আপনারা কী ধরনের সহযোগিতা চান? আমরা এখনো নির্দিষ্ট করে কিছু বলিনি। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে কোথায় সহায়তা প্রয়োজন তা ঠিক করতে কিছু সময় লাগবে।”
তিনি আরও জানান, আলোচনার শেষাংশে কমনওয়েলথ মহাসচিব নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতির প্রতি আস্থা ব্যক্ত করেছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে বাংলাদেশ একটি শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করবে।
বিদেশে বসবাসকারী ভোটারদের জন্য ওসিভি (আউট অব কান্ট্রি ভোটিং) চালুর বিষয়টি উল্লেখ করে সচিব বলেন, ৫৩ বছরে এই প্রথমবার প্রবাসীরা ভোটদানের সুযোগ পাচ্ছেন—এটি জেনে মহাসচিব সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাছাড়া আইসিপিভি (ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ভোট) সুবিধার আওতায় দেশের ভেতরে প্রায় ১০ লাখ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীকেও ভোটদানের সুযোগ দেওয়া হয়েছে—যা কমনওয়েলথের কাছে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে।
গণভোট বিষয়ে সচিব জানান, একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন নির্বাচন কমিশনের জন্য বাড়তি দায়িত্ব হলেও ইসির প্রস্তুতি দেখে কমনওয়েলথ মহাসচিব আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।