আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামি গণমাধ্যমকে বলেছেন,মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক ম্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল নির্ধারিত সময় ৩০দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন।
এই সময়ের মধ্যে আপিল না করে গ্রেফতার হলেই তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। আর দন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে আদালতে আত্মসমপনের পর আপিল করতে পারবেন। কিন্তু শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল পলাতক থাকায় তাদেও বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ান জারি করেছেন বিচারিক আদালত।
আজ বুধবার (১৯ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যদি দণ্ডপ্রাপ্তরা ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করেন, তাহলে তারা গ্রেফতার হলে রায় কার্যকর হবে।
ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১ নম্বর ধারায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিলের অধিকার দেওয়া হয়েছে। এ ধারার ৩ নম্বর উপধারায় বলা হয়েছে, দণ্ড ও সাজা অথবা খালাস দেওয়ার তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। এ সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর কোনো আপিল গ্রহণযোগ্য হবে না। আর ৪ নম্বর উপধারায় বলা হয়েছে, আপিল করার তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রসিকিউটর বলেন, দেশে ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় দুটি পদ্ধতি আছে।
একটি হলো যেসব আইনে আপিলের সময়সীমা উল্লেখ নেই, সে ক্ষেত্রে তা নির্ধারণ হয় তামাদি আইন অনুযায়ী। এ ক্ষেত্রে আপিলের সময় পেরিয়ে গেলেও বিলম্ব মার্জনার আবেদনের সুযোগ আছে। অর্থাৎ দণ্ডবিধিতে যদি কাউকে শাস্তি দেওয়া হয়, তিনি নির্ধারিত সময়ে আপিল না করলেও পরে এসে আপিলের জন্য বিলম্ব মওকুফের আবেদন করতে পারেন। কিন্তু বিশেষ আইনগুলোতে যেখানে আপিলের সময় আইনের মধ্যে বলা আছে, সে ক্ষেত্রে সময়সীমা পেরিয়ে গেলে বিলম্ব মার্জনার কোনো সুযোগ নেই। অর্থাৎ এই ৩০ দিন পার হয়ে গেলে বিলম্ব মার্জনা করার আবেদনেরই আর কোনো সুযোগ নেই।
আপিল বিষয়ে শেখ হাসিনা ও কামালকে যা করার এই ৩০ দিনের মধ্যেই করতে হবে- এমন প্রসঙ্গ উল্লেখ করলে প্রসিকিউটর তামিম বলেন, ‘আইন অনুযায়ী তা-ই হবে। ৩০ দিন পার হয়ে গেলে তারা গ্রেফতার হলে রায় কার্যকর হবে।’
হাসিনার বাকি মামলা:
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এখন কতটি মামলা ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন আছে তা জানতে চাইলে এ প্রসিকিউটর বলেন, যে মামলার রায় শেষ হয়ে গেলো এর বাইরে আর তিনটি মামলা আছে। একটি হলো ডিজিএফআইয়ের বন্দীশালা অর্থাৎ জেআইসি, সেখানে যে গুম এবং নির্যাতন করা হয়েছে তার একটি মামলা। আরেকটি হলো র্যাবের টিএফআই সেলে যে নির্যাতনের অভিযোগ সে মামলা। এছাড়া ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে গণহত্যার ঘটনায় একটি মামলা। এ তিনটি মামলায় এখন ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে বিচার হবে।
মামুনের জামিন প্রশ্নে:
সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন কি এখন জামিনের আবেদন করতে পারবেন- এ প্রশ্নের জবাবে প্রসিকিউটর বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালে তারা (দণ্ডপ্রাপ্তরা) আর কেউ কিছু চাইতে পারবেন না। ট্রাইব্যুনালের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক শেষ। এখন ট্রাইব্যুনালের কাছে তারা শুধু এই মামলার সার্টিফাইড কপি চাইতে পারবেন, সাক্ষীর জবানবন্দির সার্টিফাইড কপি চাইতে পারবেন বা যেসব নথি আছে তা চাইতে পারবেন। তাদের এখন যত চাওয়া, তা নিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল বিভাগে আপিল করতে পারবেন। আপিল ফাইলিং অবস্থায় জামিন চাইতে পারবেন।’
সাবেক আইজিপির পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের সাজায় জুলাই যোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অসন্তুষ্ট। তারা এর বিরুদ্ধে আপিল করতে চান। এ বিষয়ে তামিম বলেন, তারা যদি চান, আইন অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে আপিল বিভাগে যেতে পারবেন।
আ. দৈ./কাশেম