বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক ও কার্যনির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত একটি জায়গায় রাখতে হবে। তিনি গত বছর নভেম্বর থেকে আইজিপির দায়িত্বপালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। বর্তমান আইজিপি বলেন, দায়িত্বপালনের সময়টা মোটেই সুখকর নয়। তাকে প্রবল প্রতিকূলতার মধ্যেই কাজ করতে হচ্ছে। তাকে মাঝে মধ্যে শুনতে হয়, ‘উনি কী আমাদের লোক?’ ধারাবাহিকভাবে এমন কথাও শুনতে হচ্ছে।
আজ শনিবার (০১ নভেম্বর) রাজধানী ঢাকার কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশ পুলিশের সংস্কার: চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন আইজিপি।এই গোলটেবিলের আয়োজন করে প্রথম আলো ও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার কল্যাণ সমিতি। বৈঠকের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান।
বৈঠকের শুরুতে একটি প্রবন্ধ তুলে ধরেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (অবসরপ্রাপ্ত) ও বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির সহ সভাপতি ইয়াসমিন গফুর।
আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, রাজনৈতিক সরকারই দেশ চালাবে এবং তারাই অভিভাবক। রাজনৈতিক সরকার তো আমাদের অভিভাবক। সে জায়গাটায় কেন আমি যেতে পারছি না এবং সে ভয় থেকেই আমরা (পুলিশ) বলি, আমাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, কার্যনির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত করে একটা ইনডিপেনডেন্ট বডির আন্ডারে নিয়ে যান। আইজিপি বলেন,ভয় থেকেই আস্থাটা কেন আমি পাচ্ছি না যে, উনারাই করবেন। উনারা দেশ চালাবেন, কিন্তু উনারা কোনো প্রভাব বিস্তার করবেন না, সে জায়গাটায় কবে যাব আমি?’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে আইজিপি বলেন, মানুষের মধ্যে কতটুকু ঘৃণা আর ক্রোধ সঞ্চারিত পুলিশ থানা ছেড়ে পালায়। এমনটা ১৫০ বছরে হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পুলিশ প্রধান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ও পুলিশকে পালাতে হয়নি । ১৯৭১ সালের বড় একটা যুদ্ধ, তার মধ্যেও তো আমাদের পালাতে হয়নি। এর মধ্যে কেন জুলাই-আগস্টে আমাদের পালাতে হলো, কী পরিমাণ ঘৃণার সঞ্চার হয়েছিল মানুষের মধ্যে যে, আমরা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছি গত ১৫ বছর; এই জায়গাটাতে আমার মনে হয়, আত্মানুসন্ধান করি।’ তিনি আশা করেন, আগামীদের রাজনৈতিক দলগুলো পুলিশকে এ থেকে বের করে নিয়ে আসবে।
আইজিপি পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ছেন। তিনি বলেন, ‘মামলা তদন্তের ক্ষেত্রে, গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে এই জায়গায় যেন আমার কাছে কোনো নির্দেশনা না আসে।’ বিধান অনুযায়ী পুলিশ বাহিনীকে পরিচালনার স্বাধীনতা দেওয়ার দাবিও জানান তিনি। এ ছাড়াও পুলিশের ওপর সরকারের কর্তৃত্ব কমানোর দাবিও জানান তিনি।
এ ছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, পুলিশের অতিরিক্ত আইজি কাজী মো. ফজলুল করীম এই বৈঠকে অংশ নেন।
আ. দৈ./কাশেম