বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের দিনেও জুলাই যোদ্ধাদের রাস্তায় নামতে হয়েছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের পুলিশের হাতে মার খেতে হয়েছে, এটা অত্যান্ত লজ্জাজনক।
আজ শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বরের শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের আমির এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের পুলিশের হাতে জুলাই যোদ্ধাদের মার খাওয়া লজ্জাজনক। অনেকের দাবি মেনে নেওয়া হচ্ছে অথচ তাদেরকে বঞ্চিত করা হচ্ছে- এটা ঠিক হচ্ছে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে জামায়াতের মতো আর কাউকে জুলুমের শিকার হতে হয়নি। তাই জুলাই মজলুমদের কষ্ট আমরা সবচেয়ে ভালো বুঝি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত কারো বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়নি।গত জুলাই আন্দোলনের পর থেকে এখন পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন,সুযোগ থাকার সত্ত্বেও জামায়াত কোনো অপরাধে লিপ্ত হয়নি। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এমনকি সামনের দিনগুলোতে জামায়াতের কাউকে অপরাধ করতে দেওয়া হবে না বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
জুলাই যোদ্ধাদের লাঠিচার্জ:
উল্লেখ্য, এদিকে আজ শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অবস্থান নেওয়া জুলাই যোদ্ধাদের লাঠিচার্জ করে সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। প্রায় তিন ঘণ্টা অবস্থানের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে আন্দোলনকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন। এর আগে সকাল ১০টার পরে জুলাই যোদ্ধারা কিছু দাবি-দাওয়া নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকে পড়ে। তাদের সরিয়ে দেওয়ার জন্য দুপুর একটা পর্যন্ত পুলিশ আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা করতে চায়, তবে তারা এতে রাজি হয় না।
এরপর মৃদু লাঠিচার্জ করে তাদের সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়। বের হওয়ার পরে জুলাই যোদ্ধারা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। খেজুরবাগান এলাকায় রাখা পুলিশের বেশ কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর চালায়। এরপর এমপি হোস্টেলের সামনে কয়েকটি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ করে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বেশ কিছু সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে জুলাই যোদ্ধাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে পুলিশ। অগ্নিসংযোগ ও বিক্ষোভকারী জুলাই যোদ্ধাদের ছত্রভঙ্গ করে ফার্মগেট ও ধানমন্ডি আড়ংয়ের দিকে পাঠিয়ে দেয় পুলিশ। এ সময় উভয়পক্ষকে ইট-পাটকেল ছুড়তে দেখা গেছে। দুপুরে ঘটনাস্থলে পৌঁছান জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ। তিনি জুলাই যোদ্ধাদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে সনদের অঙ্গীকারনামা সংস্কারের ঘোষণা দেন।
আ. দৈ./কাশেম