বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, তখন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের পাশে দেখা গেল বিএনপি-ঘনিষ্ঠ তরুণ রাজনীতিক ইশরাক হোসেনকে। এই উপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক ও ক্রীড়াঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন করে আলোচনা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন বিসিবির এই নির্বাচন কি কেবলই ক্রীড়া প্রশাসনের চৌহদ্দিতে সীমাবদ্ধ, নাকি এর পেছনে রয়েছে বড় কোনো রাজনৈতিক বার্তা?
এবার বিসিবি নির্বাচনে পরিচালক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তামিম ইকবাল। তার নির্বাচনী মাঠ তৈরি করতে নিজের অবস্থান থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তার চাচা আকরাম খান। আকরাম ইতিমধ্যে নিশ্চিত করেছেন যে তিনি এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না, যাতে তামিম স্বাচ্ছন্দ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।
তবে নির্বাচনকে ঘিরে শুরু থেকেই স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার দাবি জানিয়ে আসছেন তামিম। তার অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি মহল আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে বিসিবির প্রেসিডেন্ট করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। যদিও তামিম কারও নাম প্রকাশ করেননি, তবে তার বক্তব্যে ইঙ্গিত ছিল যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দিকে।
স্বচ্ছ নির্বাচনের দাবিতে তামিম বলেন, ‘আমি শুধু চাই, নির্বাচন যেন স্বচ্ছ হয়। আমি জিতি বা হারি সেটা বড় কথা নয়।’ তবে তিনি এটাও উল্লেখ করেন, নির্বাচন ঘিরে কিছু কর্মকাণ্ড তাকে হতাশ করেছে।
তামিমের পাশে ইশরাক হোসেনের প্রকাশ্য উপস্থিতি দেখে বিস্মিত হয়েছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “সরকার হস্তক্ষেপ করছে এই অভিযোগ সঠিক নয়। সরকারের যেসব কাজ রুটিন অনুযায়ী, তা যদি কেউ হস্তক্ষেপ বলেন, তাহলে আমাদের বুঝতে হবে এখতিয়ারের সীমা কোথায়। সরকারের এখতিয়ার অতিক্রম করে কিছু হলে, সেটার বিরুদ্ধে আইসিসিসহ বিভিন্ন ফোরামে অভিযোগ করা যেতেই পারে।”
তবে তিনি আরও বলেন, “ক্রিকেট যেন কোনো রাজনৈতিক শক্তির হাতিয়ার হয়ে না ওঠে, সেটাই সবচেয়ে বড় বিষয়।”
তামিমের আশপাশের ঘনিষ্ঠ কিছু মহল ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য’ নিয়ে কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন আসিফ। তার ভাষায়, “তামিমের ভাইকে সামনে রেখে কেউ যদি অপহরণের মতো ঘটনা ঘটায়, বা কাউকে ফোন করে নির্বাচন থেকে সরাতে বলে, সেটা তো দৃষ্টিকটু। আমি নিজে তামিমের ভক্ত, কিন্তু তাকে ঘিরে যদি কেউ রাজনৈতিক খেলা খেলতে চায়, সেটা দুর্ভাগ্যজনক।”
সবমিলিয়ে বিসিবির এই নির্বাচন ঘিরে জনমনে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও জল্পনা। আগ্রহী প্রার্থীদের অনেকে প্রকাশ্যে না এলেও, আড়ালে চলছে হিসাব-নিকাশ, কৌশল ও শক্তি প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা। তামিম-ইশরাক সংযোগ, আসিফ মাহমুদের প্রতিক্রিয়া এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপোড়েন এই নির্বাচনকে ঘিরে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।
বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের ২৫টি পদের জন্য ভোট হবে আগামী ৬ অক্টোবর। শুরুতে ৪ অক্টোবর ভোটগ্রহণের কথা থাকলেও তা দুই দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। কাউন্সিলর মনোনয়নের শেষ সময় ছিল ২২ সেপ্টেম্বর। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। মনোনয়ন ফরম বিতরণ চলবে ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর, আর জমা দিতে হবে ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হবে ২৯ সেপ্টেম্বর। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ১ অক্টোবর। ওই দিনই চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হবে।
ভোটগ্রহণ চলবে ৬ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ফলাফল ঘোষণা হবে ওই দিন সন্ধ্যা ৬টায়। এরপর সাড়ে ৭টায় সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচনের ভোট হবে। রাত ৯টার মধ্যে নির্বাচন-সম্পর্কিত সব ফলাফল প্রকাশের কথা রয়েছে।