ঢাকায় মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। সেইসঙ্গে ছিল মুহুর্মুহু বিদ্যুতের ঝলকানি আর মেঘের গর্জন। রোববার মধ্যরাতে শুরু হয় বৃষ্টি ও বজ্রপাত, যা সোমবার সকাল ৭টায়ও অব্যাহত ছিল। এদিকে ভারী বর্ষণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে সকাল ৭টা থেকে বিভিন্ন রাস্তায় যানজট সৃষ্টি হয়। ভোগান্তি পোহাতে হয় কর্মস্থলগামী মানুষের।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকে জানা গেছে, সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কমলাপুর, নয়াপল্টন, কাকরাইল, শাহজাহানপুর, রাজারবাগ, মৌচাক, কারওয়ান বাজার, গ্রিনরোড, জিগাতলাসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি জমেছে। এতে অনেক রাস্তায় প্রাইভেটকার ও সিএনজিচ অটোরিকশাগুলো আটকে পড়ে। রিকশাগুলোও টেনে নিতে হয়ে চালকদের। বাসগুলো যানজটে আটকে পড়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে।
এদিকে মুষলধারে বৃষ্টির কারণে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয় স্কুলগামী শিশুদের। রাজধানীর উইলস লিটল স্কুল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক তানিয়া আক্তার বলেন, তিনি সকালে জলাবদ্ধ রাস্তায় যানজট ঠেলে স্কুলে গিয়ে শোনেন, বৃষ্টির কারণে স্কুলের সকালের শিফটের ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ সকাল সোয়া ৭টায় এই ম্যাসেজ পাঠিয়েছে মোবাইলে। ততক্ষণে অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে পৌঁছে গেছে। ভোগান্তি সয়ে আবার তাদের বাসায় ফিরে যেতে হয়।
এর আগে আবহাওয়া বিভাগ ঢাকায় ঝড়ের পূর্বাভাস দিয়েছিল। রবিবার রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর সমূহের এই পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, ঢাকা, কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল সমূহের উপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ—পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫—৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
রবিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, সোমবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক যায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের দু—এক যায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণ হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়।
আ.দৈ/ওফা