শেষ ওভারে কিছুটা নাটকীয়তা দেখা মিলেছিল বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা ম্যাচে। ৬ বলে জিততে বাংলাদেশের লাগতো ৫ রান। প্রথম বলে ৪ মারেন জাকের আলি। পরের বলে বোল্ড হয়ে যান। তৃতীয় বল শেখ মেহেদী রান করতে ব্যর্থ হয়ে চতুর্থ বলে আউট হয়ে যান। পঞ্চম বলে খানিকটা ঝুঁকি নিয়েই রান আদায় করে জয় নিশ্চিত করেন শামীম পাটোয়ারী ও নাসুম আহমেদ।
দাসুন শানাকার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে চ্যালেঞ্জিং পূঁজি গড়েছিল শ্রীলঙ্কা। তবে সাইফ হাসান ও তাওহিদ হৃদয়ের ফিফটিতে ভর করে বাংলাদেশ জিতেছে ৪ উইকেটে। দারুণ জয়ে এশিয়া কাপ টি—টুয়েন্টির সুপার শুরু করল লিটন দাসের দল।
শনিবার আরব আমিরাতের দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে শ্রীলঙ্কাকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। দুনিথ ওয়েল্লাগের প্রয়াত বাবাকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে মাঠের লড়াইয়ে নামে দুদল। নির্ধারিত ২০ শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৬৮ রান সংগ্রহ করেছে চারিথ আশালাঙ্কা দল। জবাবে নেমে ১ বল হাতে রেখে জয়ের বন্দরে নেঙার করে বাংলাদেশ।
রানতাড়ায় নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ইনিংসের পঞ্চম বলে খালি হাতে ফেরেন তানজিদ তামিম। দ্বিতীয় উইকেট লিটন দাস ও সাইফ মিলে যোগ করেন ৩৪ বলে ৫৯ রান। ৬.৩ ওভারে লিটনকে ফেরান হাসারাঙ্গা। ১৬ বলে ২৩ রান করেন টাইগার অধিনায়ক।
তৃতীয় উইকেটে সাইফ হাসান ও তাওহীদ হৃদয় মিলে যোগ করেন ৪৫ বলে ৫৪ রান। ১৪তম ওভারের শেষ বলে সাইফ ফিরলে জুটি ভাঙে। ২ চার ও ৪ ছক্কায় ৪৫ বলে ৬১ ফেরেন সাইফ। পরে তাওহিদ হৃদয় ও শামীম পাটোয়ারী মিলে যোগ করেন ২৭ বলে ৪৫ রান। ১৮.৩ ওভারে ১৫৯ রানে হৃদয়কে ফেরান দুশমন্থ চামিরা। ৪টি চার ও ২ ছক্কায় ৩৭ বলে ৫৮ রান করেন হৃদয়। জয় থেকে ১ রান দূরে থাকতে ফিরে যান জাকের। ৪ বলে ৯ রান করেন। ওভারের চতুর্থ বলে ফিরে যান শেখ মেহেদী। পরে পঞ্চম বলে সিঙ্গেল নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন নাসুম ও শামীম। শামীম ৯ রান করে অপরাজিত থাকেন।
লঙ্কানদের হয়ে ভানিডু হাসারাঙ্গা ও দাসুন শানাকা দুটি করে উইকেট নেন।
এর আগে ব্যাটে নেমে ভালো শুরু পায় শ্রীলঙ্কা। উদ্বোধনী জুটিতে পাথুম নিশাঙ্কা ও কুশল মেন্ডিস মিলে ৩০ বলে ৪৪ রান তোলেন। পঞ্চম ওভারের শেষ বলে তাসকিন জুটি ভাঙেন। টাইগার পেসারের বলে সাইফ হাসানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন নিশাঙ্কা। ৩ চার ও ১ ছক্কায় ১৫ বলে ২২ রান করেন।
সপ্তম ওভারের চতুর্থ বলে মেন্ডিস ঝড় থামান শেখ মেহেদী। সাইফের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন লঙ্কান ওপেনার। ১ চার ও ৩ ছক্কায় ২৫ বলে ৩৪ রান করেন। দশম ওভারের প্রথম বলে কামিল মিশারাকে বোল্ড করে দ্বিতীয় শিকারের দেখা পান মেহেদী। ১১ বলে ৫ রান করেন মিশারা।
চতুর্থ উইকেটে কুশল পেরেরা এবং দাসুন শানাকার জুটিতে ২৭ বলে আসে ৩২ রান। ১৩.৪ ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানের বলে লিটনের গ্লাভসে বল তুলে দেন পেরেরা। ১ চারে ১৬ বলে ১৬ রান করে আউট হন। পঞ্চম উইকেটে আশালাঙ্কা ও শানাকা মিলে বিধ্বংসী জুটি গড়েন। ২৭ বলে ৫৭ রান করেন দুজনে।
১৮.১ ওভারে ১৫৪ রানে রানআউট হয়ে সাজঘরে দিরেন আশালাঙ্কা। ১টি করে চার ও ছক্কায় ১২ বলে ২১ রান করেন। ওভারটিতে জোড়া শিকার করেন মোস্তাফিজ। চতুর্থ লিটনের ক্যাচ বানিয়ে কামিন্দু মেন্ডিসকে ফেরান এবং শেষ বলে হাসারাঙ্গা ফেরেন তানজিদের হাতে ক্যাচ দিয়ে। পরে দুনিথ ওয়েল্লাগেকে নিয়ে ইনিংস শেষ করেন শানাকা। ৩৭ বলে ৩ চার এবং ৬ ছক্কায় ৬৪ রানে অপরাজিত থাকেন শানাকা।
বাংলাদেশ বোলারদের মধ্যে মোস্তাফিজ ৪ ওভারে ২০ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন। শেখ মেহেদী ২৫ রান খরচায় নেন ২ উইকেট। এছাড়া তাসকিন এক উইকেট নেন।
আ.দৈ/ওফা