মুক্তবুদ্ধি ও প্রগতি সংগ্রামের উজ্জ্বল বাতিঘর, প্রখ্যাত লেখক, গবেষক ও বাম ধারার বুদ্ধিজীবী বদরুদ্দীন উমর আর নেই। গতকাল রোববার সকাল ১০টা ০৫ মিনিটে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিলো ৯৪ বছর। বদরুদ্দীন উমর দীর্ঘদিন ধরে বার্ধকব্যজনিত নানা জটিলতায় আক্রান্ত ছিলেন।
জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সম্পাদক ফয়জুল হাকিম গণমাধ্যমে জানান, তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সকালে তাকে ঢাকার বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সকাল ১০টা ০৫ মিনিটে তিনি মারা যান। তিনি আরো জানান, গত ২২ জুলাই শ্বাসকষ্ট ও নিম্ন রক্তচাপ নিয়ে বদরুদ্দীন উমর হাসপাতালে ভর্তি হন। দীর্ঘ ১০ দিন চিকিৎসা শেষে তিনি বাসায় ফেরেন গত সপ্তাহে।
বদরুদ্দীন উমরের মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনুস, আইন ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ, এনসিপি ও সিপিবির পক্ষ থেকে গভীর শোক এবং সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছে।
বদরুদ্দীন উমর ১৯৩১ সালে ২০ ডিসেম্বর ভারতের বর্ধমানে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আবুল হাশিম ভারতীয় উপমহাদেশের একজন মুসলিম জাতীয়তাবাদী রাজনীতিবিদ ছিলেন। ষাটের দশকে বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন আর ধর্ম ও রাজনীতি নিয়ে তার লেখা বইগুলো বাংলাদেশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলো।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উমরের বড় মেয়ে বিদেশে থেকে ফিরলে ইচ্ছা অনুযায়ী সোমবার জুরাইন কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হবে। ৯৪ বছরের বর্ণাঢ্য জীবনে শিক্ষকতা, রাজনীতি সম্পাদক হিসেবে আলো ছড়িয়েছিলেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে শুরু করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন উমর। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের যাত্রাও শুরু হয় তারই হাত ধরে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার স্বাধীনতা পুরস্কারসহ বেশকিছু পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি। তবে কোনো পুরস্কারই তিনি গ্রহণ করেননি।
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে করা মামলায় সাক্ষী ছিলেন সদ্যপ্রয়াত বদরুদ্দীন উমর। তিনি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে সাক্ষ্যও দিয়েছেন। তবে ট্রাইব্যুনালে এসে জবানবন্দি দেননি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন এ তথ্য জানান।
ইসলামি ভাবধারা থেকে বামপন্থী রাজনীতিক : প্রয়াত বদরুদ্দীন উমর তার বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বলেছেন, পঞ্চাশের দশকে তার বাবা ঢাকায় ‘খেলাফত-ই-রব্বানী পার্টি’ নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। ইসলামী আদর্শ বাস্তবে রূপায়িত করাই ছিলো এ দলের আদর্শ। পারিবারিক রাজনৈতিক কারণেই শুরুতে ইসলামী চিন্তাধারায় প্রভাবিত হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর তাতে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। সেসময় কমিউনিস্ট আন্দোলনের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা এবং জানাশোনা বাড়তে থাকে। তবে, অক্সফোর্ডে পড়তে যাওয়ার পর তার মার্ক্সপন্থী চিন্তা-ভাবনা পূর্ণতা পায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে পেশাজীবন শুরু করা বদরুদ্দীন উমর পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। যদিও শেষ পর্যন্ত শিক্ষকতা পেশায় ছিলেন না তিনি।
বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি এবং গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ছিলেন তিনি। এক সময় পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটিতে ছিলেন বদরুদ্দীন উমর। তার বাবা আবুল হাশিম ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠন ছিলেন। ১৯৫০ সালে তারা সপরিবারে ভারত থেকে বাংলাদেশে চলে আসেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে ১৯৫৩ সালে স্নাতক ও ১৯৫৫ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্নের পর ১৯৬১ সালে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিপিই ডিগ্রি অর্জন করেন। বদরুদ্দীন উমরের রাজনীতি ও সমাজ নিয়ে চিন্তা, আগ্রহ বা দায়বোধ তৈরি হয় মূলতঃ পারিববারিক সূত্রে। তার বাবা আবুল হাশিম ছিলেন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ত।
প্রধান উপদেষ্টার শোক : মুক্তিকামী মানুষের আন্দোলন সংগ্রামের অন্যতম অগ্রনায়ক, রাজনীতিবিদ, প্রগতিশীল চিন্তাবিদ, সমাজবিজ্ঞানী ও লেখক বদরুদ্দীন উমরের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
গতআল রোববার দুপুরে এক শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে পেশাজীবন শুরু করে পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়া বদরুদ্দীন উমর ছিলেন আমাদের মুক্তবুদ্ধি ও প্রগতির সংগ্রামের এক উজ্জ্বল বাতিঘর। ভাষা আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকা, গবেষণা, ঔপনিবেশিক মানসিকতার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ এবং সমাজতান্ত্রিক দর্শনের প্রতি তার অবিচল নিষ্ঠা আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে।
তিনি ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী সরকারের পরিবর্তনের জন্য গোড়া থেকেই গণঅভ্যুত্থানের কথা বলেছেন এবং জুলাই আন্দোলনকে উপমহাদেশের একটি অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থানের স্বীকৃতি দিয়েছেন।
ড. ইউনূস বলেন, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সভাপতি বদরুদ্দীন উমর শুধু একজন তাত্ত্বিক ছিলেন না, ছিলেন একজন সংগ্রামী, যিনি আজীবন অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছেন। জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য লেখক ও বুদ্ধিজীবী বদরুদ্দীন উমরকে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করে সরকার।
বদরুদ্দীন উমরের মৃত্যু জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চিন্তাশীল মানুষদের জন্য তার লেখনী ও জীবনদর্শন এক অনন্য পথনির্দেশ হিসেবে কাজ করবে।
শোকবার্তায় বদরউদ্দীন উমরের শোকসন্তপ্ত পরিবার, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান প্রধান উপদেষ্টা।
আইন উপদেষ্টার শোক : প্রবীণ রাজনীতিক বদরুদ্দীন উমরের মৃত্যুতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এক শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
শিক্ষা উপদেষ্টার শোক : শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার গতকাল এক শোকবার্তায় বলেছেন, বাংলাদেশের বিশিষ্ট লেখক, বামপন্থী চিন্তাবিদ ও গণমানুষের মুক্তি আন্দোলনের অক্লান্ত সৈনিক বদরুদ্দীন উমরের মৃত্যুতে সমগ্র জাতির সঙ্গে আমিও গভীরভাবে শোকাহত। তার মৃত্যুতে দেশ ও জাতি এক কৃতী সন্তানকে হারালো।
তিনি বলেন, আমাদের ভাষা আন্দোলনসহ এই দেশের সকল গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক অধ্যায়ের বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস রচনায় বদরুদ্দীন উমরের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক দ্বন্দ্বসমূহের যথার্থ উপলব্ধির ক্ষেত্রে তার চিন্তা ও রচনাসমূহ আমাদের জন্য পাথেয় স্বরূপ। বদরুদ্দীন উমর শুধু তাত্ত্বিক আলোচনাতেই তার কর্ম সীমাবদ্ধ রাখেননি, মানুষের মুক্তি সংগ্রামে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণও করেছিলেন।
শোকবার্তায় শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে তার নির্ভীক ও আপোষহীন ভূমিকার কথাও এই প্রসঙ্গে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে এই দেশ ও জাতি স্মরণ করবে। জীবনের কোনো সুবিধাবাদী প্ররোচনা, প্রলোভন তাকে তার আদর্শ থেকে বিচলিত বা লক্ষ্যভ্রষ্ট করতে পারেনি। তার জীবন, চিন্তা ও কর্ম ছিল মানুষের মুক্তিসংগ্রামের জন্য নিবেদিত। বদরুদ্দীন উমরের প্রয়াণে জাতি এক প্রজ্ঞাবান ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন মনীষীকে হারাল।
বদরুদ্দীন উমরের মৃত্যুতে তারেক রহমান ও মির্জা ফখরুলের শোক : দেশের প্রখ্যাত চিন্তক, প্রবীণ রাজনীতিক, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সভাপতি বদরুদ্দীন উমরের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খানের পাঠানো তাৎক্ষণিক দেওয়া শোকবাণীতে দুই শীর্ষ নেতা বলেন, বদরুদ্দীন উমর ব্রিটিশ ভারতের খ্যাতনামা রাজনীতিক আল্লামা আবুল হাশিমের সন্তান ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, অক্সফোর্ডে পড়াশোনা করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ছেড়ে রাজনীতিতে আসেন। জীবদ্দশায় তাকে ইতিহাসে রাজনৈতিক জীবন্ত কিংবদন্তি বলা হতো। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস তৈরিতে তিনি ছিলেন বিদ্যাপীঠসম। সর্বশেষ স্বৈরাচারবিরোধী জুলাই আন্দোলনে তার তাত্ত্বিক অবস্থান নতুন প্রজন্মকে দিয়েছে মুক্তির এক নতুন দিশা। শোকবাণীতে বিএনপির দুই শীর্ষ নেতা বলেন, বদরুদ্দীন উমর ছিলেন চিন্তাশীল রাজনৈতিক অভিভাবক। তার মৃত্যুতে জাতীয় রাজনীতিতে শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়।
জামায়াতের শোক : লেখক, গবেষক ও প্রবীণ রাজনীতিক বদরুদ্দীন উমরের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল, সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
গতকাল রোববার দুপুরে দেওয়া এক শোকবাণীতে তিনি বলেন, লেখক, গবেষক, প্রবীণ রাজনীতিক ও জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সভাপতি বদরুদ্দীন উমর ১৯৩১ সালের ২০ ডিসেম্বর ভারতের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আবুল হাশিম ছিলেন উপমহাদেশের একজন প্রভাবশালী মুসলিম জাতীয়তাবাদী নেতা। বদরুদ্দীন উমর একজন খ্যাতিমান লেখক, গবেষক ও বামপন্থি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
শোকবাণীতে বলা হয়, ষাটের দশকে জাতীয়তাবাদ, ধর্ম ও রাজনীতি বিষয়ে তার রচিত গ্রন্থগুলো মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব সময়ে সাংস্কৃতিক চেতনা গঠনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে এবং স্বাধীনতার আন্দোলনে প্রভাব বিস্তার করে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হলেও তিনি তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান।
তিনি আরও বলেন, বদরুদ্দীন উমর গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বহু অবদান রেখে গেছেন। আমি তার ইন্তিকালে শোক প্রকাশ ও তার রূহের মাগফিরাত কামনা করছি। একইসঙ্গে তার শোকাহত পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।
এনসিপির শোক : লেখক, গবেষক, মার্ক্সবাদী তাত্ত্বিক ও জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সভাপতি বদরুদ্দীন উমরের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গতকাল রোববার দলটির যুগ্ম সদস্যসচিব সালেহ উদ্দিন সিফাতের সই করা শোকবার্তায় বলা হয়, ১৯৩১ সালে জন্মগ্রহণ করা বদরুদ্দীন উমরের পিতা মরহুম আবুল হাশিম ছিলেন এই জনপদের মানুষের ঐতিহাসিক মুক্তি-সংগ্রামের একজন প্রবাদপুরুষ। খুনি হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের বয়ান উৎপাদক ও সমর্থক মূলধারার বুদ্ধিজীবী ও সুশীল সমাজের বিপরীতে বদরুদ্দীন উমর ছিলেন গণমানুষের পক্ষের চিন্তক ও রাজনৈতিক শক্তি।
বার্তায় বদরুদ্দীন উমর সম্পর্কে বলা হয়, ২০২৪ সালের জানুয়ারির ডামি নির্বাচনের আগেই তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগকে তাড়ানোর কথা বলেছিলেন। জুলাই অভ্যুত্থান সংঘটিত হওয়ার সময় এই গণ-আন্দোলনকে তিনি ‘গণ-অভ্যুত্থান’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন এবং আগের অভ্যুত্থানসমূহের তুলনায় এটির ব্যাপকতা স্বীকার করেছিলেন। এ ছাড়া বাহাত্তরের মুজিববাদী সংবিধানকে তিনি ১৯৭২ সালেই ‘চিরস্থায়ী জরুরি অবস্থার সংবিধান’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
একজন গবেষক ও লেখক হিসেবে তিনি তাঁর লেখায় বস্তুনিষ্ঠ ও নৈর্ব্যক্তিক ইতিহাস তুলে ধরতেন। এনসিপির শোকবার্তায় বলা হয়, ‘বাংলাদেশের জনগণের মুক্তি-সংগ্রামের ইতিহাসের মুজিববাদী পাঠের বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার ছিলেন বদরুদ্দীন উমর। নতুন বাংলাদেশে একাত্তরের জনযুদ্ধের প্রকৃত ও গণমানুষের ইতিহাসের তালাশ এবং পুনঃপাঠে তিনি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচিত হবেন। তাঁর মৃত্যুতে আমরা এক অপূরণীয় ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছি। জাতীয় নাগরিক পার্টি–এনসিপি তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার ও সহযোদ্ধাদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছে।
সিপিবির শোক প্রকাশ : রাজনীতিক ও মার্কসবাদী তাত্ত্বিক কমরেড বদরুদ্দীন উমরের মৃত্যুতে গভীর শোক ও বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)-সিপিবির (এম) সভাপতি কমরেড ডা. এম এ সামাদ ও সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাহিদুর রহমান।
গতকাল রোববার দুপুরে সংবাদ মাধ্যমে প্রেরিত এক শোক বার্তায় নেতারা শোক সন্তপ্ত পরিবার, বন্ধুবান্ধব, শুভানুধ্যায়ী ও দলের শোকাহত কমরেডদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়ে বলেন, আজীবন বিপ্লবী, নির্মোহ, নির্লোভ, নিরহংকার এই বুদ্ধিজীবীকে হারিয়ে দেশ ও জাতির যে অপুরণীয় ক্ষতি হলো তা কোন দিন পূরণ হবে না। তিনি তার সৃষ্টি কর্মের মধ্য দিয়ে আমাদের মাঝে চিরদিন বেঁচে থাকবেন, স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। বিদায়, লাল সালাম, কমরেড বদরুদ্দীন উমর।