আজ রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) ঘটতে চলেছে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ, যা হবে ২০২২ সালের পর দীর্ঘতম। প্রায় এক ঘণ্টা ২২ মিনিট ধরে চাঁদ র’ক্তলাল হয়ে ঝলমল করবে। পুরো গ্রহণ চলবে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা। এ সময় চাঁদ রক্তিম লাল রং ধারণ করবে।
বিজ্ঞানীরা একে ব্লাড মুন নামে ডাকেন। বিরল এই মহাজাগতিক ঘটনা বাংলাদেশ থেকেও দেখা যাবে। ঢাকার সময় ৭ সেপ্টেম্বর রাত ৯টা ২৮ মিনিটে চন্দ্রগ্রহণ শুরু হবে, ১১টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে পূর্ণগ্রহণ, আর সর্বোচ্চ রক্তিম চাঁদ অর্থাৎ ব্লাড মুন দেখা যাবে রাত ১২টা ১১ মিনিটে। শেষ হবে রাত ২টা ৫৫ মিনিটে। আর আবহাওয়া বাধা দিলে মন খারাপ করবেন না। নাসা সহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এই দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
যখন চাঁদ এবং সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থান করে এবং পৃথিবী এদের মাঝে চলে আসে, তখন পৃথিবী সূর্যের আলো চাঁদের ওপর পৌঁছতে বাধা দেয়। চাঁদ পুরোপুরি ঢেকে না গেলেও, সূর্যের লাল আলো বায়ুমণ্ডল পেরিয়ে চাঁদে পড়ে এবং নীল রঙ শোষিত হয়। ঠিক যেমন সূর্যাস্তের সময় আকাশ লাল দেখায়। ফলে চাঁদকে তখন লাল দেখা যাবে। অস্ট্রেলিয়া, এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের প্রায় ৭০০ কোটি মানুষ এই বিরল দৃশ্যের সাক্ষী হবে। তবে আমেরিকার বেশিরভাগ এলাকা এই ঘটনা দেখতে পারবে না। বাংলাদেশ এবার ভাগ্যবানদের তালিকায় রয়েছে।
তারা জানিয়েছেন এবারের চন্দ্রগ্রহণ গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এশিয়া ও পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া থেকে এটি সম্পূর্ণভাবে দেখা যাবে। এ ছাড়া ইউরোপ, আফ্রিকা, পূর্ব অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের কিছু স্থান থেকে আংশিক দৃশ্য দেখা যাবে। ফলে বিশ্বের ৮৫ ভাগ মানুষই এবারের চন্দ্রগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।
রোববার চন্দ্রগ্রহণ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ২৮ মিনিট থেকে। এ সময় চাঁদ ধীরে ধীরে পৃথিবীর ছায়ার মধ্যে প্রবেশ করতে শুরু করবে। ব্লাড মুন দেখা যাবে রাত ১১টা ৩০ মিনিট থেকে সোমবার ১২টা ৫২ মিনিট পর্যন্ত। সোমবার রাত ২টা ৫৫ মিনিটের পর চাঁদ পৃথিবীর ছায়া থেকে সম্পূর্ণ বেরিয়ে আসবে।
আকাশ পরিষ্কার থাকলে বাংলাদেশের যেকোনো জায়গা থেকে চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে। ব্লাড মুন দেখার জন্য কোনো বিশেষ সুরক্ষা চশমা বা সরঞ্জাম প্রয়োজন হবে না। ফলে খালি চোখেই নিরাপদে দেখা যাবে। আরও স্পষ্ট দৃশ্য দেখতে চাইলে বাইনোকুলার বা টেলিস্কোপ ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে চাঁদের গর্ত ও এর লাল আভার বিভিন্ন স্তর দেখা যাবে।