বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,
১২ কার্তিক ১৪৩৩
ই-পেপার

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
যুক্তরাজ্যে ‘সমকামী সেজে’ আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশি-পাকিস্তানিদের ঘিরে আলোচনা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০২ পিএম   (ভিজিট : ১০৩)
X

যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) পাওয়ার বৈধ পথ নিশ্চিত করতে এক শ্রেণির অভিবাসীকে ‘ভুয়া সমকামী’ হিসেবে পরিচয় দিতে উদ্বুদ্ধ করছে অসাধু আইনজীবী ও পরামর্শক চক্র। 

বুধবার (১৫ এপ্রিল) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে আসা অভিবাসীদের কাছ থেকে বিপুল অংকের অর্থ নিয়ে তাদের সমকামী হওয়ার ভুয়া গল্প ও নথি তৈরি করে দিচ্ছে এই সিন্ডিকেট। 

এছাড়া তাদের শেখানো হচ্ছে কিভাবে সাক্ষাৎকারে কথা বলতে হবে, এমনকি নকল প্রমাণ হিসেবে ছবি, সুপারিশপত্র ও চিকিৎসা নথিও তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে।

এ ক্ষেত্রে বিশেষ করে টার্গেট করা হচ্ছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো মুসলিমপ্রধান দেশের নাগরিকদের । কারণ এসব দেশে সমকামিতা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। ফলে সমকামী পরিচয় দিলে দেশগুলোতে জীবননাশের ঝুঁকি আছে—এই অজুহাত দেখিয়ে সহজেই যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পাওয়া যায়।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আশ্রয় আবেদনের জন্য ১ হাজার ৫০০ থেকে শুরু করে ৭ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত ফি নেওয়া হচ্ছে। এমনকি একজন পরামর্শক ২ হাজার ৫০০ পাউন্ডের বিনিময়ে ‘কমপ্রিহেনসিভ প্যাকেজ’ দেওয়ার প্রস্তাব দেন।

প্যাকেজের মধ্যে ছিল—সমকামী ক্লাবে তোলা ছবি, ভুয়া প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্কের গল্প, সংগঠনের সুপারিশপত্র, সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি।একজন পরামর্শক গোপন প্রতিবেদককে বলেন, এখন এখানে থাকার একটাই সহজ উপায়—অ্যাসাইলাম, আর সেটা হলো ‘গে কেস’।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, অনেক ভুয়া আবেদনকারী চিকিৎসকের কাছে গিয়ে মানসিক অবসাদের নাটক করেন, যাতে মেডিক্যাল রিপোর্ট পাওয়া যায়। 

কেউ কেউ আবার এইচআইভি পজিটিভ হওয়ার মিথ্যাও বলেছেন, যাতে সহানুভূতি পাওয়া যায়। এদিকে, লন্ডনের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক সভায় অংশ নিয়ে বিবিসির গোপন প্রতিবেদক দেখেন, উপস্থিত অভিবাসীরা নিজেদের মধ্যে নির্দ্বিধায় এই জালিয়াতির কথা স্বীকার করছেন। সভায় উপস্থিত একজন বলেন, এখানে উপস্থিতদের মধ্যে ১ শতাংশও সমকামী নয়, এমনকি ০.০১ শতাংশও নয়। সবাই কেবল বৈধ হওয়ার জন্য এই নাটক করছে।


অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরণের পরিকল্পিত প্রতারণার ফলে যারা প্রকৃতপক্ষেই নির্যাতনের শিকার হয়ে আশ্রয় খুঁজছেন, তারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ভুয়া আবেদনের আধিক্যের কারণে যৌন পরিচয়ের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো যাচাই করা কর্তৃপক্ষের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই যৌন পরিচয়ের ভিত্তিতে করা। বিশেষ করে ২০২৩ সালে যৌন পরিচয়ের ভিত্তিতে করা আবেদনের ৪২ শতাংশই ছিল পাকিস্তানি নাগরিকদের।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর (হোম অফিস) এই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে জানিয়েছে, ভুয়া তথ্য দিয়ে আশ্রয় আবেদন করা একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। কোনো আবেদনকারীর তথ্য মিথ্যা প্রমাণিত হলে তাকে কেবল বহিষ্কারই করা হবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদি জেল ও নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হবে। অপব্যবহার রোধে অভিবাসন প্রক্রিয়ায় আরও কঠোর স্ক্রিনিং পদ্ধতি চালু করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

আ.দৈ/আরএস





Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : [email protected]

● About Us    ● Advertisement    ● Terms & Conditions    ● Privacy Policy    ● Copyright Policy    ● Circulation    ● Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝