রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ
নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
আজ রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাসভবনে ১১ দলীয় জোটের নেতাদের বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বৈঠক শেষে আজ দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দল ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জোটের পক্ষ থেকে একজন অভিন্ন প্রার্থী দেওয়া হবে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করা হয়েছে।
অলি আহমদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং দেশের অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। বিভিন্ন সময়ে তিনি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ছয়বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে অলি আহমদকে বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে একজন অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিত্ব প্রয়োজন। ১১ দল মনে করে, কর্নেল (অব.) অলি আহমাদের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব দেশের চলমান সংকট নিরসনে ভূমিকা রাখতে পারে।
বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সাংবিধানিক ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে আলোচনা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণভোট, জুলাই সনদ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সংস্কার কমিশনের আলোচনায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব এসেছিল। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পদ্ধতিতে পরিবর্তন, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ও সেখানে আলোচিত হয়েছিল। ১১ দলের প্রত্যাশা ছিল, জুলাই সনদের আলোকে নির্বাচনের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, সরকার গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। সংস্কার পরিষদের শপথ ও অধিবেশন না হওয়া এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণের অভিযোগও তোলেন তিনি।
বর্তমান রাষ্ট্রপতির বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ১১ দল প্রথম অধিবেশনের শুরুতেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণ করে জুলাই সনদের আলোকে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে এখনও বহাল রাখা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে কোনো বিচারিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি—যা জোটের কাছে সন্দেহজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রচলিত নিয়মে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠদের প্রভাব রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বেশি থাকে। তবে জোটের জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাটাই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশের বার্তা দেওয়া সম্ভব হবে। বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আ. দৈ./কাশেম




















