রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জমতে শুরু করেছে রাজশাহীর পশুর হাট
আবু সাঈদ রনি, রাজশাহী
প্রকাশ: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৬:৪৬ পিএম   (ভিজিট : ১৫৭)
X

মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম উৎসব ঈদুল আযহার বাকি আর সপ্তাহ খানেক। আর এই ঈদের অন্যতম মহাযজ্ঞ কুরবানিকে সামনে রেখে জমতে শুরু করেছে রাজশাহীর পশুর হাটগুলো। হাটে হাটে গরু-ছাগল নিয়ে ভিড় জমাচ্ছেন খামারী ও ব্যবসায়ীরা। তবে আশানুরুপ বেচাকেনা এখনও জমে নি পশুর হাটগুলোতে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই হাটে উৎসবের আমেজ বইবে বলে আশা বিক্রেতা ও ইজারাদারদের। 

এদিকে রাজশাহী নগরীর সিটিহাট, নগরীর অদূরে নওহাটা ও কাঁটাখালি, গোদাগাড়ীর মহিষালবাড়ি ও কাঁকনহাট, বাগমারার মচমইল, মোহনপুরের কেশরহাট এবং পুঠিয়ার বানেশ্বরসহ ১০টি বড় পশুর হাট বসে রাজশাহীতে। এর মধ্যে আয়তন ও বেচাকেনায় রাজশাহী তো বটেই উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম বড় পশুর হাট নগরীর সিটিহাট।

 হাটে সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈদ সামনে রেখে উঠতে শুরু করেছে কুরবানির গরু-ছাগল। সকাল থেকে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে বিক্রেতা ও ক্রেতা সংখ্যা। দূরের জেলা থেকেও আসছেন ব্যাপারীরা।  প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার রাজশাহীতে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ৪ লাখ ৬৩ হাজার ১১টি। নিজ বাসা-বাড়ি ছাড়াও খামারে পালন করা হয়েছে এসব পশু। 

আর সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭১ হাজার ৫৮টি। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় প্রায় ৯১ হাজার ৯৫৩টি পশু বেশি রয়েছে। এই বাড়তি সরবরাহ শুধু স্থানীয় বাজারেই নয়, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাহিদা মেটাতেও ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে হাটে আসা ব্যবসায়ীরা বলছেন, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর পশুর সংখ্যা অনেক বেশি। 

তাই ভালো দাম পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা পিছু ছাড়ছে না কিছুতেই। এছাড়া হাটে গরু কেনার লোকের সংখ্যাও এবার অনেক কম। পাশাপাশি অন্য জেলা থেকে আসা ব্যাপারী সংখ্যাও তুলনামূলক কম। তাই পশু বিক্রিতে অপেক্ষা করতে হতে পারে ঈদের আগ মুহুর্ত পর্যন্ত। 
এবার প্রাকৃতিক উপায়ে পশু মোটাতাজাকরণে বিশেষ জোর দিয়েছেন খামারিরা। কোনো ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার ছাড়াই স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পশু বাজারজাত করতেই এই উদ্যোগ তাদের। 

রাজশাহীর পবা উপজেলার খামারি আবদুল মালেক জানান, কয়েক মাস আগে থেকেই খাবার, চিকিৎসা ও পরিচর্যার বিষয়গুলো পরিকল্পনা করে এগিয়েছেন তারা। নিয়মিত খড়, ভূষি, ঘাস এবং পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহের পাশাপাশি পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করানো হয়েছে। তবে গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচ অনেক বেড়েছে, তাই বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়াটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা তার।

তানোর উপজেলার রাইসুল ইসলাম জানান, কোরবানির বাজারকে মাথায় রেখে অন্তত ছয় মাস আগে থেকেই তিনি প্রস্তুতি নিয়েছেন। এবার তার খামারে ছয়টি ষাঁড় গরু রয়েছে, যেগুলো ধীরে ধীরে পরিচর্যা করে বাজারের উপযোগী করা হয়েছে। তার আশা, ভালো মানের পশুর জন্য ক্রেতারা সাড়া দেবেন। সেই সাথে ক্রেতা চাহিদা বিবেচনায় ভালো দাম পাবেন।

পবা উপজেলার নওহাটার বিদিরপুর এলাকা থেকে সিটি হাটে আসা গরু বিক্রেতা শামসুল ইসলাম বলেন, হাটে গরুর আমদানি ব্যাপক। সেই তুলনায় ক্রেতার উপস্থিতি কম। তাই গরুর দামও খুব একটা বাড়ছে না। দেড় লাখ টাকার গরুর দাম বলছে এক লাখ, এক লাখ ১৫/২০ হাজার টাকা। হাটে চারটি গরু আনছিলাম, দুইটা বিক্রি করছি খু্বই কম দামে। বাকি যে দুইটা আছে সেটাও ১৫/২০ হাজার কম বলছে। 

গোদাগাড়ীর গরু ব্যবসায়ী শরিফুল আলম বলেন, এবার গরুর বাজার খুবই খারাপ, পুরাটাই লস। দাম কম হওয়ার একটাই কারণ, গরুর আমদানি বেশি। হাটের শুরুতেই এই অবস্থা, দাম আর বাড়বে বলেও মনে হয় না। লস হলেও কিছু করার নাই, বিক্রি তো করতে হবে। 
রাজশাহী সিটি হাটের ইজারাদার হাফেজ খায়রুল ইসলাম আজকের দৈনিককে বলেন, ঈদুল আযহা উপলক্ষে পশুর হাট জমতে শুরু করেছে। 

ঈদ যতই ঘনিয়ে আসবে হাটের বেচাবিক্রিও বেড়ে যাবে। ঈদকে ঘিরে সার্বিক প্রস্তুতি ভালো, বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজন আসছেন, তাদের পছন্দমতো পশু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। বাহির থেকে যারা আসছেন তাদের জন্য সার্বিক নিরাপত্তা ও সহায়তার জন্য স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করছেন। 

তবে প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের দাবি, এ বছর পশুর সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি থাকায় বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা কম। তারা খামারিদের প্রশিক্ষণ, টিকাদান কর্মসূচি এবং পশুর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করেছেন। ফলে বাজারে সুস্থ, রোগমুক্ত ও নিরাপদ পশু সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এতে ক্রেতাদের আস্থাও বাড়বে। 

রাজশাহী জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতোয়ার রহমান আজকের দৈনিককে বলেন, গত কয়েক বছরের মতো এবারও দেশীয় পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে। রাজশাহীতে উৎপাদিত অতিরিক্ত পশু দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও সরবরাহ করা যাবে, যা স্থানীয় খামারিদের জন্য একটি বড় সুযোগ। পাশাপাশি খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ, চিকিৎসা সহায়তা এবং আধুনিক পদ্ধতিতে পশুপালনের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

আ.দৈ/আরএস



Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : [email protected]

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝